
বড় সাফল্য পেল ইসরো। বহু প্রতীক্ষিত গগনযান মিশনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে সফলভাবে সম্পন্ন হল দ্বিতীয় ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ড্রপ টেস্ট। সাম্প্রতিক সময়ে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যালের একাধিক ব্যর্থতার পর এই সাফল্য ইসরোর জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং মিশনের প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
গগনযান মিশনের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ এগোল ইসরো
এই সাফল্যের কথা নিজেই জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি জানান, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা চালানো হয় এবং সেটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই সাফল্য দেশের মহাকাশ অভিযানে নতুন গতি এনে দেবে।
ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, গগনযান মিশনের জন্য এই এয়ার ড্রপ টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এর মাধ্যমে মহাকাশযানের নিরাপদ অবতরণের প্রযুক্তি যাচাই করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রযুক্তিগত জটিলতা ও বিলম্ব কাটিয়ে এবার দেশীয় প্রযুক্তির ওপর ভরসা রেখেই এগোচ্ছে এই প্রকল্প। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতের মানববাহী মিশনের পথ আরও মসৃণ করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে শ্রীহরিকোটা থেকে প্রথম মানববিহীন গগনযান উৎক্ষেপণ করা হবে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার এই কর্মসূচির জন্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের মধ্যেই প্রথম আনক্রুড ফ্লাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যা ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে।
সম্প্রতি ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণ জানিয়েছিলেন, গগনযান মিশনের সমস্ত প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তাঁর মতে, ধারাবাহিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে মানববাহী অভিযানে কোনও ঝুঁকি না থাকে। এই সফল এয়ার ড্রপ টেস্টের ফলে গগনযান মিশন এখন বাস্তবায়নের আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেল।
source – banglahunt.com
