Bangla Panjika 2026

ইতু পূজা ব্রতকথা ও ব্রতবিধান

ব্রতফল: কুমারী, সধবা, পুত্রবর্তী বিধবারা সকলে এই ব্রত করিয়া থাকেন। এই ব্রত পালনে রমণীগণ সংসারে অতুল সুখের অধিকারিণী হইয়া থাকেন এবং দেহান্তে অক্ষয় স্বর্গলাভ করেন।

অষ্ট চাল, অষ্ট দুর্ব্বা, কলস পাত্রে থুয়ে।

শুনে সবে ইতুর কথা মন-প্রাণ দিয়ে।

ইতু দেন বর, ধান্যে পুত্র-পৌত্রে ভরে উঠুক ঘর।।

এক দেশে এক বামুন আর বামনী বাস করতো। তাদের ছিল দুটি মেয়ে—উমনো আর ঝুমনো। বামুন ভারী গরীব। কোন রকমে দিন কাটতো। একদিন বামুনের পিঠে খাবার সাধ হল। বামুনকে বললে— “কোথায় গুড়, কোথায় নারিকেল, কোথায় তেল যে পিঠে করবো?” বামুন তখন এদিকে সেদিকে করে সব এনে দিলে আর বললে— “দেখ বামনী! এই যে পিঠে করবি, এ যদি তোর মেয়েদের খেতে দিস, তবে মেয়ে দুটোকে তখনি বনবাস দিব।”

বামনী আর করে কি, সন্ধ্যা হতে না হতে মেয়ে দুটোকে খাইয়ে দাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে পিঠে ভাজতে লাগলো। বামুনের ভারি স্ফূর্তি। পাছে মেয়েদের দু’একখানা দিয়ে বামনী ফাঁকি দেয়, সেইজন্যে রান্নাঘরের কানাচিতে কতগুলি তেঁতুলের বীচি নিয়ে বসে রইলো। হ্যাক-ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, পিঠে ভাজা হচ্ছে, আর বামুন একটা ছ্যাঁকে একটা করে বীচি রাখছে।

এদিকে হয়েছে কি, ঐ ছ্যাঁক ছ্যাঁক শব্দে উমনোর ঘুম ভেঙ্গে গেল। এত রাত্রে মা রান্না ঘরে কি কচ্ছে দেখতে এলো। দেখে কি, মা এক কাঁড়ি পিঠে ভেজেছে। অমনি ধরে বসলো— “মা একখানা পিঠে দে না।” মায়ের তো প্রাণ, মেয়েকে না দিয়ে কি থাকতে পারে? একখানা পিঠে দিয়ে বললে— “যা মা, এইখানা খেয়ে মুখ মুছে শুয়ে পড়গে যা, তোর বাপ টের পেলে আর রক্ষে নেই।” উমনো চুপি চুপি পিঠেখানি খেয়ে, মুখটুকু বেশ করে মুছে শুয়ে পড়লো।

আবার ছ্যাঁক ছ্যাঁক। ঝুমনোর ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে তো রান্নাঘরে দেখতে এলো, এত রাতে রান্না-ঘরে মা কি কচ্ছে? মাকে পিঠে ভাজতে দেখে, সে বায়না করলে— “মা, একখানা পিঠে দে না?” মায়ের প্রাণ না দিয়ে থাকিতে পারলে না। একখানা পিঠে দিয়ে বললে— “এইখানা খেয়ে বাছা শুয়ে পড়বি। তোর বাবাকে জানিস তো, টের পেলে আর রক্ষে নেই।” ঝুমনো পিঠেখানা খেয়ে মুখ মুছে আবার শুতে গেল।

ছ্যাঁক ছ্যাঁক—আর ছ্যাঁক নেই, পিঠে ভাজা বন্ধ। বামুন তেঁতুলের বীচিগুলি শুদ্ধ নিয়ে ঘরে এসে বললে— “দে বামনী পিঠে।” এক ঘটি জল, একখানা পিঁড়ি পেতে দিয়ে একথালা পিঠে এনে বামুনের সামনে ধরে দিলে। বামুন ক’রছে কি, একখানা করে পিঠে খাচ্ছে আর একটা করে তেঁতুলের বীচি ঠোঁঙা থেকে মাটিতে রাখছে। বামনী তো দেখেই অবাক। ভাবছে, বামুন এটা ক’রেছে কি? বামুন তো একথালা পিঠে সব খেয়ে ফেলল, কিন্তু তার টোপরের কতকগুলি বীচি রয়ে গেল। বামনীর দিকে চেয়ে বললে— “বামনী! আর পিঠে কোথায় শিগগীর নিয়ে আয়। চোঁয়া, পোড়া, কাঁচা যতগুলি নিজের জন্য রেখেছিলি সব এনে দে।” বামুন খেলে। কিন্তু দুটো তেঁতুলের বিচি বেশী রইলো।

বামনী এখন তেঁতুলের বিচির অর্থ বুঝতে পারলে। বামুন তো রেগে অগ্নিশর্মা। হুঙ্কার ছেড়ে বললে— “রে বামনী! পিঠে দু খানা বুঝি ঐ অলুক্ষুণে মেয়ে দুটোকে দিয়েছিস? দাঁড়া, এখনি বনবাসে দিচ্ছি।” বামনী তো কেঁদেই আকুল। বামুনকে সে কত কাকুতি মিনতি করতে লাগলো, কিন্তু বামনের রাগ কি আর যায়? বামুন জল ঘটিখানেক খেয়ে, রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে শুয়ে পড়লো। ভোর হতে না হতেই মেয়ে দুটোকে মামার বাড়ী যাবার নাম করে নিয়ে চলল।

উমনো, ঝুমনো কখনো মামার বাড়ী যায়নি। মামার বাড়ীর কথা শুনে আহ্লাদে আটখানা হয়ে বাপের সঙ্গে যেতে লাগলো। অনবরত হাঁটতে লাগলো, পথ আর ফুরোয় না। উমনো বললে— “বাবা! মামার বাড়ী আর কত দূর?” বামুন বললে— “আর বেশী দূর নয়।” এই বলে জঙ্গলের কাছে গিয়ে উপস্থিত হ’ল। ঝুমনো বললে— “বাবা! আর যে চলতে পারছি না, বড্ড তেষ্টা পেয়েছে, একটু জল দাও না বাবা।” বামুন করলে কি, তাদের একটা বড় বটগাছের তলায় বসিয়ে জল আনবার ছুতো করে চলে গেল আর ফিরে এল না।

উমনো আর ঝুমনো এত পথ হেঁটে বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। একটু শুলো, যেমন শোয়া, বটগাছের ঠাণ্ডা হাওয়ায় অমনি ঘুমিয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর জেগে উঠে দেখে, রাত অনেক হয়েছে, চারদিকে বাঘ ভালুক ডাকছে, তাদের বাবা কাছে নেই। ভয়ে জড়সড় হয়ে দুজনে কাঁদতে লাগলো। উমনো বললে— “ঝুমনো! কেঁদে আর লাভ কি? পিঠে খেয়েছিলুম বলে বাবা ফাঁকি দিয়ে বনবাসে দিয়ে গেছেন।” তখন তারা কি করবে, বটগাছের কাছে যেয়ে বললে— “বটবৃক্ষ! তুমি যদি সত্যিকারের বটবৃক্ষ হও তবে দুজনকে তোমার গহ্বরে স্থান দাও।”

বটগাছ অমনি দু’ফাঁক হয়ে গেল। উমনো আর ঝুমনো তার মধ্যে লুকিয়ে রইলো। ক্রমে রাত্রি গিয়ে দিন এলো। উমনো আর ঝুমনো আবার বটগাছকে বললে— “বটবৃক্ষ! তুমি যদি সত্যিকার বটবৃক্ষ হও, তবে এখন আমাদের বাইরে যেতে দাও।” বটগাছ অমনি দু’ফাঁক হয়ে গেল; উমনো আর ঝুমনো বাইরে এলো। তারা ঘুরে ঘুরে যেখানে যে ফল পায় তাই খেয়ে কোনরকমে দিন কাটায়। এইভাবে ক’দিন গেল। রাত্রে বটগাছের গহ্বরে থাকে আর দিনে বেরিয়ে এসে ফলমূল জোগাড় করে খায়।

একদিন হয়েচে কি, উমনো আর ঝুমনো ঘুরতে ঘুরতে এক জায়গায় যেয়ে উপস্থিত। দেখে কি, দেবকন্যারা নেয়ে ধুয়ে, আসন পেতে, ঘট, পিটুলি, ফল দিয়ে কি পুজো কচ্ছে। দেবকন্যারা তাদের দুজনকে দেখে বললে— “তোরা কে রে?” উমনো ঝুমনো বললে— “আমরা বড় অভাগিনী গো—বড় অভাগিনী! পিঠে খেয়েছিলুম বলে বাপ আমাদের বনে দিয়ে গেছে।” দেবকন্যারা বললেন— “মা, তোরা নেয়ে ধুয়ে এসে আমাদের সঙ্গে ইতুপুজো কর, তোদের সব দুখ্যু দূর হবে।”

যেমন শোনা অমনি কাজ। উমনো ঝুমনো পুকুরে ডুব দিয়ে এলো। দেবকন্যারা কেউ ফল দিল, কেউ পিটুলি ও ফুল দিলে, কেউ পুজোর নিয়ম বলে দিলে। উমনো ঝুমনো পূজা করলে। পুজোর পরে দেবকন্যারা বললেন— “আজ অগ্রহায়ণ মাসের রবিবার। এই মাসে এই দিনে যে না খেয়ে দেয়ে, শুদ্ধাচারে ইতুপুজো করে—তার আর সুখের সীমা থাকে না।” এই বলে দেবকন্যারা অন্তর্ধান হল। উমনো ঝুমনো দেখে কি, তাদের আর রূপ ধরে না। তারা তখন ইতুর ঘট নিয়ে বাড়ী চললো, সেই যে বড় রাস্তা। সমস্ত দিন হেঁটেও যে রাস্তা পার হওয়া যায়নি, ইতুঠাকুরাণীর বরে সেই রাস্তা কম দূর হয়ে গেল। উমনো ঝুমনো এক গা গয়না পরে, রূপে চারদিক আলো করে, বাড়ী ফিরে গেল। পাড়া-পড়শীরা তাই দেখে বললে— “ও বামুন দিদি! দেখো, তোমার উমনো, ঝুমনো বাড়ী এসেছে।”

বামনী অনেকদিন পর মেয়েদের দেখে আহ্লাদে আটখানা। এদিকে ইতু ঠাকুরাণীর বরে বামুনের অবস্থা ফিরে গেল। কুঁড়ে ঘরের বদলে প্রকাণ্ড বাড়ী হ’ল, হাতীশালে হাতী হল, ঘোড়াশালে ঘোড়া হল, মরাই ভরা ধান হল, গোয়াল ভরা গরু হ’ল, বাড়ী ঘর ধন জনে সব ভরে গেল। ঐশ্বর্য্যের আর সীমা নাই। বামুনও বাড়ী এসে এসব দেখে অবাক। বামনীকে ডেকে বললে— “দেখছিস বামনী, অলুক্ষুণে মেয়ে দুটোকে তাড়িয়ে দিয়ে আমাদের কেমন ধন দৌলত হয়েছে।” শুনে মেয়েরা ঘর থেকে বাইরে এসে বলল— “ইস, বাবা! অতো অহঙ্কার করো না, এসব ইতুরাণীর বরে হয়েছে। তুমি তো আমাদের বনবাসে দিয়ে এলে সেখানে আমরা ইতু পুজো করেছিলুম। তাই তোমার এত ঐশ্বর্য্য হয়েছে।” বামুনের মুখে রা-টি নেই—তখন আদর করে মেয়েদের বুকে তুলে নিলে।

এইভাবে দিন যায়। বামুনের সুখের সীমা নেই। একদিন সেই দেশের রাজা শিকারে গিয়েছিলেন। পথে যেতে তাঁর সিপাই লস্করের বড়ই তেষ্টা পেল। জল কোথাও নাই। সিপাই খুঁজতে খুঁজতে বামুনের প্রকাণ্ড বাড়ী দেখতে পেয়ে, জল নিতে এলো। উমনো করলে কি, ইতুঠাকুরাণীর একটা ছোট্ট ভাঁড়ে এক ভাঁড় জল দিলে। রাজার লোকেরা তা নিয়ে রাজাকে দিলে। এত লোক আর ঐটুকু জল দেখে তো রাজা অগ্নিশর্মা। বললেন— “কি! আমার সঙ্গে ঠাট্টা!” রাজা জল ফিরিয়ে দিলেন। উমনো বললে— “ঐ জলেই ঢের হবে।” যে কথা সেই কাজ। ঐ জল রাজা খেলেন, পাত্র খেলে, কোটাল খেলে, রাজার সিপাই লস্কর সকলেই খেলে তবু ভাঁড়ের জল ফুরোয় না।

রাজা তা দেখে অবাক। বামুনকে ডেকে বললেন— “আপনার কন্যা দুটিকে আমার সঙ্গে ও আমার বন্ধু পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দিন।” বামুন ভারী খুশি। রাজা ও পাত্রকে জামাই কর্ত্তে কে না চায়? বামুনের বাড়ীতে ধুম পড়ে গেল। ভারে ভারে দই; ঝাঁকা ঝাঁকা মাছ, বস্তা বস্তা আলু, ময়দা, ঘী আসছে—উমনো ঝুমনোর বিয়ে। মহা ধুমধামে উমনো ঝুমনোর বিয়ে হয়ে গেল। মেয়েরা শ্বশুরবাড়ী যাবে, বামুনের বাড়ীতে সাজ সাজ রব পড়ে গেল।

সেদিন ছিল অগ্রহায়ণ মাসের রবিবার। উমনো সকালে উঠে লুচি সন্দেশ দিয়ে জল খেলে। ঝুমনো সকালে উঠে পুকুর ঘাটে স্নান করে আসন পেতে, ঘট নিয়ে, ইতুপুজোর সব যোগাড় করে দিদিকে ডাকতে গেল। উমনো বললে— “ভাই আমি জল খেয়েছি, আমার আজ আর ইতুপুজো করা চলবে না। আর আমি হলেম রাজার রাণী আমার কি ওসব পুজো করা সাজে?” ঝুমনো আর কি করে, মাটিতে রেখা দিয়ে একলাটিই ইতুপুজোর কথা কহলে। যাবার সময় হ’ল। উমনো পান চিবুতে চিবুতে সোনার পাল্কীতে উঠলো, আর ঝুমনো ইতুর ঘট নিয়ে পাত্রের সঙ্গে ডুলিতে চড়লো। রাজা এক পথ দিয়ে গেলেন—পাত্র অন্য দিকে গেল। উমনো যে পথে যায়, সে পথে কেবল মড়া যায়—গাছপালা শুকিয়ে যায়, রোদের তাপে সকলের প্রাণ যায় যায় হয়ে এলো। আর ঝুমনো যে পথে চললো, সে পথে শাঁক বাজতে লাগলো, কাঁচা শস্যে মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো, লোকজনের মোটেই ক্লান্তি বোধ হ’ল না। ঝুমনোর আসার পর পাত্রের দিন দিন উন্নতি হতে লাগলো, রাজ-দরবারে সম্মান হল। ঝুমনোর আর সুখের অন্ত নাই।

এদিকে হল কি—উমনো যাবার পরেই রাজবাড়ীতে যেন অলক্ষ্মী ঢুকলো। রাজার হাতীশালে হাতী মলো, ঘোড়াশালে ঘোড়া মলো, গোয়ালে গরু মলো, রাজার ঐশ্বর্য্য যায় যায় ও রাজ্য যায় যায়। লোকে বলতে লাগলো, রাজা শিকারে গিয়ে কি কুলক্ষণা মেয়ে না বিয়ে করে এনেছেন। রাজাও ভাবলেন, তাইতো! কি কুলক্ষণা রাণীই ঘরে এনেছেন। রাজা রেগে কোটালকে বললেন— “কোটাল, রাণীকে এক্ষুণি বনে দিয়ে এসো।”

কোটাল করলে কি—রাণীকে বনবাস না দিয়ে পাত্রের বাড়ীতে রেখে এলো। ঝুমনো বোনের রুক্ষ কেশ, শুকনো মুখ দেখে বললে— “দিদি একি তোর হয়েছে কি?” উমনো সব খুলে বললে— “দিদি! এসব ইতুঠাকুরাণীর কোপে হয়েছে। তুমি ইতুপুজো না করেই রাজার সঙ্গে এসেছিলে, এসব তারই ফল। যাক, এই অঘ্রাণ মাসের রবিবার ইতুপূজো করলেই সব দোষ খণ্ডে যাবে।”

দিন যায়, মাস যায়। উমনো ঝুমনোর বাড়ীতে থাকে। দেখতে দেখতে অঘ্রাণ এলো, ঝুমনো বললে— “দিদি! কাল রবিবার, সকালে উঠে নেয়ে-ধুয়ে ইতুপুজো কর্তে হবে।” সকাল হল। ঝুমনো তাড়াতাড়ি পুকুরে যেয়ে, স্নান করে এসে দিদিকে ডাকলে— “দিদি! ইতুপুজোর যোগাড় করছি, আয়।” উমনো বললে— “আমি তো জল খেয়েছি।”

এইরূপ এক এক করে তিনটি রবিবার গেল। উমনোর আর ইতুপুজো হয় না। মাত্র একটি রবিবার বাকী আছে। আগের দিন ঝুমনো বললে— “দিদি! আজ তুই আমার কাছে শুবি, কাল রবিবার, এই রবিবারটি গেলে এ বছরে আর ইতুপুজো হবে না।” ঝুমনো উমনোর আঁচলে গেরো বেঁধে শুয়ে পড়লো। সকাল হতে না হতেই উমনোকে টেনে নিয়ে পুকুরে যেয়ে স্নান করে এসে ইতুপুজো করতে গেল। পুজো শেষ হ’ল। ঝুমনো বললে— “দিদি! তুই এখন ইতুঠাকুরাণীর নিকট পছন্দমতো বর চেয়ে নে।” তখন উমনো ইতুঠাকুরাণীর নিকট ঘাট মেনে ক্ষমা চাইলে এবং বিস্মৃত রাজা আবার তাকে স্মরণ করে যাতে সুখে ঘর করেন এই বর চাইলে।

ইতুর কৃপায় রাজার তক্ষুণি উমনোকে মনে পড়লো। কোটালকে হুকুম করলে— “রাণীকে বন থেকে সন্ধান করে শীঘ্র নিয়ে এসো।” অমনি খোঁজ পড়লো। সন্ধান হল। কোটাল গিয়ে সংবাদ দিলে, রাজা নিজে না গেলে রাণী আসবেন না। তখন রাজা নিজে গিয়ে চর্তুদোলা পাল্কীতে মহা ধুমধামে উমনোকে রাজবাড়ী নিয়ে এলেন। রাজার আবার ঐশ্বর্য্য হল। হাতীশালে হাতী হ’ল, ঘোড়াশালে ঘোড়া হ’ল, গোয়ালে গরু হ’ল, লোকজন পাইক লস্করের আর সীমা রইলো না। উমনোর সুখ আর দেখে কে? উমনো আর ঝুমনোর কার্তিকের মত ছেলে হল। সুখে স্বামী পুত্র নিয়ে ঘর-সংসার কর্তে লাগলো। সেই থেকে ইতুপূজা পৃথিবীতে প্রচার হ’ল।

কার্ত্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন একটি নূতন গামলা অথবা সরাতে গঙ্গা বা এঁটেলমাটি দিয়ে তার উপর ঘট দিয়ে ঘটের চারদিকে ধান, কচু, মান, হলুদ এই সব গাছ একটি করে বসিয়ে তার পাশে মটর, কলমি, বট, সরষে, শুষনীর ডাল বসিয়ে পাঁচকড়াই ভাজা ও পঞ্চশস্য ঘটের চারদিকে ছড়িয়ে দেবে। অগ্রহায়ণ মাসের প্রতি রবিবারে পূজা এবং সংক্রান্তির দিন সাধ দিয়ে ইতু বিসর্জন দেবে।

পূজা শেষে নিচের মন্ত্র বলে ঘটে জল দিতে হবে ও প্রণাম করতে হবে:

কাটি ঘুটি কড়াতে গেলাম, ইতুর কথা শুনে এলাম। এ কথা শুনলে কি হয়? নির্ধনের ধন হয়, অপুত্রের পুত্র হয়, আইবুড়োর বিয়ে হয়, অশরণের শরণ হয়, অন্ধের চক্ষু হয়, অন্তকালে স্বর্গে যায়।

বিঃদ্রঃ একজন ব্রতী ইতুর ব্রতকথা পাঠ করবে আর সকলে ভক্তি সহকারে ব্রতকথা শুনবে।

  • ধূপ, দীপ
  • পুষ্প, দূর্ব্বা, বেলপাতা
  • সিন্দুর
  • কৃষ্ণতিল, হরীতকী
  • মিষ্টি, নৈবেদ্য, ফল
  • দক্ষিণা

home3