Bangla Panjika 2025

স্যার জগদীশচন্দ্র বসু (৩০ নভেম্বর ১৮৫৮ – ২৩ নভেম্বর ১৯৩৭) ছিলেন একজন বিশ্ববিখ্যাত ব্রিটিশ ভারতীয় বাঙালি **পদার্থবিজ্ঞানী, জীববিজ্ঞানী, উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং প্রথম যুগের কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা**। তাঁকে **রেডিও বিজ্ঞানের অন্যতম জনক** হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে **উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে** এবং বাহ্যিক উদ্দীপনায় সাড়া দেয়। তাঁর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান গবেষণার পথ খুলে দিয়েছিল।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন 🎓

জগদীশচন্দ্র বসু ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমানে বাংলাদেশের) ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের **রাঢ়িখাল গ্রামে** এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা **ভগবানচন্দ্র বসু** ছিলেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। জনশিক্ষা প্রসারে বাবার আগ্রহের কারণে তিনি গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়া শুরু করেন, যেখানে তিনি ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল শিশুর সাথে মেশার সুযোগ পান। এরপর তিনি কলকাতায় **সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুল** এবং **সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে** বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা করেন।

লন্ডন থেকে ফিরে গবেষণা

১৮৮৫ সালে তিনি বিলাত থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং প্রেসিডেন্সি কলেজে **পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক** হিসেবে যোগ দেন। বৈষম্যের প্রতিবাদে তিনি তিন বছর বেতন ছাড়াই কাজ করেন। এই সময় থেকেই তিনি তাঁর বিখ্যাত গবেষণাগুলি শুরু করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল **ক্ষুদ্র বেতার তরঙ্গ** (Microwave) নিয়ে কাজ। তিনিই প্রথম মিলিমিটার মাপের তরঙ্গ তৈরি এবং প্রদর্শন করেন।

উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা আবিষ্কার 🌿

জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর **ক্রেসকোগ্রাফ (Crescograph)** যন্ত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদও মানুষের মতো উত্তেজনায় সাড়া দেয়। তিনি দেখিয়েছিলেন যে উদ্ভিদ আঘাত, তাপ, এবং বৈদ্যুতিক উদ্দীপনায় সংকুচিত হয়, যা প্রমাণ করে যে তাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা রয়েছে। এই আবিষ্কার তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।

বসু বিজ্ঞান মন্দির (Bose Institute)

১৯১৭ সালে তিনি কলকাতায় **বসু বিজ্ঞান মন্দির** (Bose Institute) প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞানের গবেষণাকে জনগণের কাছে নিয়ে আসা। এটি ছিল তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণার চূড়ান্ত রূপরেখা এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি ছিল: **”আমি যা দিয়ে গেলাম, তার শেষ নেই।”**

প্রধান আবিষ্কার ও অবদান

  • তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি **বেতার যোগাযোগে অর্ধপরিবাহী সংযোগস্থল (semiconducting junction)** ব্যবহার করেন।
  • উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপের জন্য তিনি **ক্রেসকোগ্রাফ** (Crescograph) আবিষ্কার করেন।
  • তিনি প্রথম বাঙালি কল্পবিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত।
  • তাঁর অন্যতম গবেষণাপত্র ছিল: **”Responses in the Living and Non-Living”**।

গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ 📚

  • Response in the Living and Non-Living
  • Plant Autographs and Their Revelations
  • The Nervous Mechanism of Plants
  • অব্যক্ত
  • নিরুদ্দেশের কাহিনী (বাংলা কল্পবিজ্ঞান)
home3