
প্রাচীন ভারতের মহান গণিতজ্ঞ Aryabhata-এর নামানুসারে এই উপগ্রহের নামকরণ করা হয়। ১৯৭২ সালে এর পরিকল্পনা শুরু হয় এবং কয়েক বছরের প্রস্তুতির পর ১৯৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল সোভিয়েত ইউনিয়নের কাপুস্তিন ইয়ার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে Cosmos-3M রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়। এই অভিযানে সোভিয়েত সহযোগিতা থাকলেও উপগ্রহটির নকশা, নির্মাণ ও বৈজ্ঞানিক দায়িত্ব ছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর উপর।
প্রায় ৩৬০ কিলোগ্রাম ভরের এই উপগ্রহটির বিদ্যুৎক্ষমতা ছিল ৪৬ ওয়াট। মহাকাশে এটি প্রায় ৫ বছর ১১ মাস সক্রিয় ছিল এবং ১৯৮১ সালের মার্চ মাসে এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আর্যভট্ট উপগ্রহ শুধু বৈজ্ঞানিক সাফল্যের প্রতীকই নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। একসময় ভারতের ডাকটিকিট এবং পুরনো দুই টাকার নোটেও এই উপগ্রহের ছবি স্থান পেয়েছিল, যা তার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।
এই সফল অভিযানের পর থেকেই মহাকাশ গবেষণায় ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর প্রতি দেশের আস্থা ও আগ্রহ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। বলা যায়, এখান থেকেই ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রার দৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়।
