Bangla Panjika 2025

বটুকেশ্বর দত্ত (১৮ নভেম্বর ১৯১০ – ২০ জুলাই ১৯৬৫) ছিলেন উনিশ শতকের শেষভাগ ও বিশ শতকের শুরুতে ভারতের ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের এক দুর্ধর্ষ বাঙালি বিপ্লবী এবং স্বাধীনতা–সেনানি।
ঐতিহাসিক প্রতিবাদ:
১৯২৯ সালে ভগৎ সিংয়ের সাথে নয়া দিল্লির কেন্দ্রীয় সংসদ ভবনে প্রতীকী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমে তিনি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা এমনভাবে বোমা ফেলেন যাতে কারো কোনো ক্ষতি না হয়—উদ্দেশ্য ছিল শুধুই অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক শোনানো।
“বধিরকে শোনাতে উচ্চকণ্ঠ প্রয়োজন”
— ভগৎ সিংয়ের সেই বিখ্যাত বক্তব্য
বোমা নিক্ষেপের পর তিনি ও ভগৎ সিং ইস্তাহার ছড়িয়ে স্লোগান দেন এবং স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হন।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন

বটুকেশ্বর দত্তের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ থানার ওঁয়াড়ি গ্রামে। পিতা ছিলেন গোষ্টবিহারী দত্ত। ছোটবেলায় তিনি মোহন নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন।
পরবর্তীতে পিতার কর্মসূত্রে কানপুরে চলে যান এবং সেখান থেকেই ম্যাট্রিক পাশ করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি চন্দ্রশেখর আজাদ ও ভগৎ সিং এর সংস্পর্শে এসে বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হন। হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেন। বিপ্লবীদের মধ্যে তিনি বি.কে নামে পরিচিত ছিলেন।

জেল জীবন

বিস্ফোরক আইন ভঙ্গ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। কারাগারে থেকে তিনি ও ভগৎ সিং রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার আদায়ের দাবিতে ঐতিহাসিক অনশন শুরু করেন। এই অনশনের সময় শহীদ হন বিপ্লবী ‘যতীন দাস’।
পরে বটুকেশ্বর মুক্তি পেলেও বাংলায়, পাঞ্জাবে ও উত্তরপ্রদেশে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ১৯৪২ সালে তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিন বছরের জন্য অন্তরীন রাখা হয়। তিনি হিন্দুস্তান সমাজপ্রজাতান্ত্রিক সংস্থার সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

শেষ জীবন

এই মহান বিপ্লবীর শেষ জীবন ছিল বেদনা ও অবহেলায় ভরা। জেল থেকে মুক্তি পেলেও টিবি-তে আক্রান্ত হন এবং স্বাধীন ভারতে তাঁর যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করেই তাঁকে জীবন কাটাতে হয়।
বিবাহের পর পাটনায় বসবাস শুরু করেন এবং জীবিকার তাগিদে পরিবহণ ব্যবসা করতেন। স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব উৎসর্গ করা এই বিপ্লবী শেষ পর্যন্ত প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে তিনি মারা যান।
ভারতের এই মহান বিপ্লবীকে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। 🙏
home3