
আমাদের দেশে গণপরিবহণের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় রেলপথ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে রেলের যাত্রী সংখ্যা। এমতাবস্থায়, যাত্রীদের সঠিক এবং সুষ্ঠু পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে একের পর এক বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রেল। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বন্দে ভারতের মতো অত্যাধুনিক সেমি হাই-স্পিড ট্রেনের চলাচল শুরু হয়েছে। ওই ট্রেন যাত্রীদের মধ্যেও তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারতীয় রেল এবার ঘণ্টায় ২২০ কিমি পর্যন্ত গতিতে চলতে সক্ষম নতুন প্রজন্মের ট্রেনের অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, ওই ট্রেনগুলি বন্দে ভারতের থেকেও দ্রুতগামী হবে।
বড় পদক্ষেপ রেলের:
মূলত, রেল মন্ত্রক দু’টি নতুন ট্রেনসেট তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। যেগুলির ডিজাইন স্পিড ঘণ্টায় ২২০ কিমি। বর্তমানে বন্দে ভারত ট্রেনগুলির গতি ঘণ্টায় ১৮০ কিমি। অর্থাৎ, ভারতীয় রেল শীঘ্রই বন্দে ভারতের চেয়েও বেশি গতিসম্পন্ন ট্রেন চালু করবে। বর্তমানে সারাদেশে ৮১ জোড়া বন্দে ভারত চেয়ার কার ট্রেন চলছে। কিন্তু নতুন ট্রেনটি এই সিস্টেম রেলের পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও আধুনিক করে তুলবে।
নতুন ১৬-কোচের ট্রেনসেট:
২০২৬ সালের ২৩ মার্চ, রেলওয়ে বোর্ড ২০২৭-২৮ সালের কোচ উৎপাদন কর্মসূচির অধীনে ২ টি ১৬-কোচের ট্রেনসেট অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। এই ট্রেনগুলি ব্রডগেজ ট্র্যাকে চলবে এবং এগুলিতে স্টিলের তৈরি কোচ থাকবে। যেগুলির সর্বোচ্চ অপারেশনাল স্পিড হবে ঘণ্টায় ২০০ কিমি। যা যাত্রীদের একটি দ্রুত ও মসৃণ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেবে।

নতুন ট্রেনসেটগুলির নির্মাণ ও খরচ:
২০২৪ সালের অক্টোবরে, চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি ২ টি হাই-স্পিড ট্রেনসেটের ডিজাইন ও উৎপাদনের জন্য BEML-কে চুক্তি প্রদান করে। প্রতিটি ট্রেনসেটে ৮ টি কোচ থাকবে এবং প্রতি কোচের খরচ ২৭.৮৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, নকশা ও পরিকাঠামোগত খরচ সহ এই প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৮৬৬.৮৭ কোটি টাকা। উল্লেখ্য যে, ভারতে ট্রেন ও কোচ উৎপাদনের ৩ টি প্রধান কেন্দ্র রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি, কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি এবং রায়বেরেলির মডার্ন কোচ ফ্যাক্টরি। যেখানে বন্দে ভারত থেকে শুরু করে মেট্রো, অমৃত ভারত ও অন্যান্য আধুনিক ট্রেন তৈরি করা হয়। জানিয়ে রাখি যে, নতুন ট্রেনের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষ ট্র্যাক ব্যবস্থারও উন্নতি করছে। ট্র্যাকের মান উন্নত করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এখন কম্পোজিট স্লিপার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা প্রচলিত লোহা ও কংক্রিটের স্লিপারের চেয়ে হালকা এবং বেশি টেকসই। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই স্লিপারগুলি বেশি ওজন বহন করতে পারে এবং যাত্রাকে আরও আরামদায়ক করে তোলে। বিশেষ করে সেতু ও পারাপারের স্থানগুলিতে এগুলি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
AI প্রযুক্তি নিরাপত্তা বাড়াবে:
এছাড়াও, ভারতীয় রেল এবার ট্র্যাক পর্যবেক্ষণের জন্য আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এর জন্য গ্রাউন্ড পেনিট্রেশন রাডারের মতো আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। যা ট্র্যাকের অবস্থা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও, ওয়েল্ডিংয়ের গুণমান যাচাই করার জন্য ‘ম্যাগনেটিক পার্টিকেল টেস্টিং’ পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে,রেজ্জ্জ্জ্জা যাতে ক্ষুদ্রতম ত্রুটিও সময়মতো শনাক্ত করা যায়।
source – banglahunt.com
