
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় আরও ৫ বছরের বিনামূল্যে দেশবাসীকে রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ৮০ কোটি মানুষ প্রতি মাসে বিনামূল্যে রেশন পান। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অতিরিক্ত ২৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, শুধু খাদ্যসামগ্রী বিলিই নয়, দেশের গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন বা এনএফএসএ-র অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।
আরও ৫ বছর বিনামূল্যে মিলবে রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের:
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গণবণ্টন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হবে। তাঁর কথায়, কেন্দ্র চাইছে দরিদ্র মানুষের কাছে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে। সেই কারণেই এবার থেকে রেশন পরিবহণ ও বণ্টনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারগুলির মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু গুদাম থেকে রেশন দোকান পর্যন্ত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছনোর ক্ষেত্রেই নয়, রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধির কথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি, এতে পরিবহণ খরচ কমবে এবং গ্রাহকদের হাতে নির্দিষ্ট সময়ে রেশন পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
এই প্রকল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অটোমেশন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, অনলাইন মনিটরিং এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে গোটা রেশন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। খাদ্যসামগ্রী কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে, কোন ডিলারের কাছে কত মজুত রয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। সরকারের মতে, এর ফলে রেশন চুরি, কালোবাজারি বা দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। পাশাপাশি ‘এক দেশ-এক রেশন কার্ড’ প্রকল্পকে আরও কার্যকর করতে এই নতুন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেও দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ দেশের যে কোনও প্রান্তে গিয়ে উপভোক্তারা নিজেদের রেশন তুলতে পারবেন।
তবে কেন্দ্রের এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র এই প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, করোনা অতিমারির সময় যে প্রকল্প কোটি কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষার ভরসা হয়ে উঠেছিল, সেটিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দেশে খাদ্য সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং দরিদ্র মানুষের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জন্য বিনামূল্যে রেশন এখনও বড় সহায়তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রেশন ডিলারদের একাংশ অবশ্য কেন্দ্রের ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন। সারা ভারত ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, কিলোগ্রাম পিছু মাত্র ১০ পয়সা কমিশন বৃদ্ধি বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। তাঁর কথায়, জ্বালানির দাম থেকে শুরু করে শ্রমিক খরচ সবকিছুর ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সেখানে এই বৃদ্ধি কার্যত অপ্রতুল। যদিও কেন্দ্রের দাবি, ধাপে ধাপে গণবণ্টন ব্যবস্থাকে আরও লাভজনক ও আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে প্রযুক্তিনির্ভর এই রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলেই আশা কেন্দ্রীয় সরকারের।
Credit – banglahunt.com
