Bangla Panjika 2026

সঠিক পরিকল্পনায় বাজিমাত! হরমুজে অবরোধ সামলে কীভাবে নিজের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ করছে ভারত?

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের প্রায় ২ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করে। তারপর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এদিকে, ভারত তার অর্ধেক অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়েই আমদানি করে। তবে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারত অপরিশোধিত তেলের ঘাটতি মোকাবিলায় ক্রমবর্ধমানভাবে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ শব্দের মতে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, আফ্রিকা থেকে শুরু করে ইরান এবং ভেনেজুয়েলা থেকেও সরবরাহ পুনরায় শুরু করেছে।

কীভাবে নিজের তেলের ভাণ্ডার পূর্ণ করল ভারত?

রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, গত মার্চ মাসে ভারত রাশিয়া থেকে দৈনিক গড়ে ১৯.৮ লক্ষ ব্যারেল (বিপিডি) তেল আমদানি করেছে। যা তার পূর্বের মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, সমুদ্রে থাকা রুশ তেলের জন্য মার্চ মাসে আমেরিকার দেওয়া একটি অস্থায়ী ছাড়ের ফলেই এই আকস্মিক বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।এখন এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এই দেশগুলি থেকেও সরবরাহ বেড়েছে: এদিকে, ভারত শুধু রাশিয়ার ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য বাজারের দিকেও ঝুঁকেছে। গত মার্চ মাসে অ্যাঙ্গোলা থেকে আমদানি বেড়ে দৈনিক ৩.২৭ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৩ গুণ বেশি। অন্যদিকে, এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত, ইরান থেকে গড়ে দৈনিক ২.৭৬ লক্ষ ব্যারেল এবং ভেনেজুয়েলা থেকে দৈনিক ১.৩৭ লক্ষ ব্যারেল তেল ভারতে এসেছে। ভারত নাইজেরিয়া থেকেও তেল ক্রয় বাড়িয়েছে।

রয়ে গেছে প্রতিবন্ধকতা: আসলে, ভারত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করলেও সামগ্রিকভাবে পথটি খুব একটা সহজ নয়। এমনিতেই অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এপ্রিলের চুক্তিগুলি বিশ্বব্যাপী বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের চেয়ে ব্যারেল প্রতি ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে সম্পন্ন হয়েছিল। এদিকে, আফ্রিকার তেল মধ্যপ্রাচ্যের তেলের সম্পূর্ণ বিকল্প হতে পারে না। কারণ ভারতীয় শোধনাগারগুলি একটি নির্দিষ্ট গ্রেডের তেলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। অপরদিকে, বিকল্প ক্রয় সত্ত্বেও ভারতের মোট তেল আমদানি কমেছে। ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক ৫২ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এসেছিল। যেখানে মার্চে তা কমে দৈনিক ৪৫ লক্ষ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।

পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কী বাড়বে: উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলি এখনও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায়নি। এদিকে, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্বীকার করেছে যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানিগুলো লোকসানে চলছে। কিন্তু অবিলম্বে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে। সরকার এক্সাইজ ডিউটি কমিয়েও স্বস্তি দিয়েছে।

Credit – banglahunt.com

home3