
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ভুয়ো ভোট, পরিচয় জালিয়াতি রুখতে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব ঘিরে এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
জাল ভোট রুখতে শীর্ষ আদালত
ভোটের সময় আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির বায়োমেট্রিক ব্যবহারের প্রস্তাবে, এবার সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চেয়েছে।
আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের মতে, ভোটারদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে জাল ভোট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এমনকি ভুয়ো ভোট আটকাতে ভোটকেন্দ্রে বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা উচিত বলেই মত তাঁর।

এই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে। আদালত জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে তা বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতের নির্বাচনে এই পদ্ধতি চালু করা যায় কিনা, তা বিশদভাবে পরীক্ষা করে হলফনামা জমা দিতে হবে কমিশনকে। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জানান, “এটা ক্ষমতার ইস্যু নয়, নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।”
এই ঘটনার প্রসঙ্গে মামলাকারী আইনজীবী উপাধ্যায় যুক্তি দেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেলে ভবিষ্যতে ভোট প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়ে উঠবে। বায়োমেট্রিক ভিত্তিক ভোট ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জাতীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রস্তাব বাস্তবে রূপ পায় কিনা-কারণ এর ওপর নির্ভর করতে পারে দেশের ভোটব্যবস্থার আগামী দিশা।
source – banglahunt.com
