Bangla Panjika 2026

প্রেমেন্দ্র মিত্র: কল্লোল যুগের অন্যতম বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক

প্রেমেন্দ্র মিত্র (৪ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ – ৩ মে ১৯৮৮) ছিলেন কল্লোল যুগের অন্যতম বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি একাধারে কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা সাহিত্যে তাঁর সৃষ্ট ঘনাদা, পরাশর বর্মা, মেজকর্তা এবং মামাবাবুর মতো চরিত্র আজও পাঠকমহলে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

১৯০৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে তাঁর জন্ম হয়। তাঁদের পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার রাজপুরে। তিনি হুগলি জেলার কোন্নগরের এক সম্ভ্রান্ত মিত্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জ্ঞানেন্দ্রনাথ মিত্র এবং মাতার নাম সুহাসিনী দেবী। অল্প বয়সেই মাতৃহারা হন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন।

সাহিত্যজীবনের সূচনা

১৯২৩ সালে ঢাকায় অবস্থানকালে একটি পোস্টকার্ড পড়তে গিয়ে তাঁর মনে দুটি গল্পের ভাবনা আসে। সেই রাতেই গল্প দুটি লিখে তিনি পত্রিকা ‘প্রবাসী’-তে পাঠান। ১৯২৪ সালে ‘শুধু কেরানী’ ও ‘গোপনচারিণী’ গল্প দুটি প্রকাশিত হয়।

ছোটগল্প ও সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য

১৯৩২ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথমা’ প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প সংকলনগুলি হলো— পঞ্চশর, বেনামী বন্দর এবং পুতুল ও প্রতিমা। মানুষের সম্পর্কের জটিলতা, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন এবং মানসিক দ্বন্দ্ব তাঁর রচনায় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

ঘনাদা ও পরাশর বর্মা

তাঁর সৃষ্ট সবচেয়ে জনপ্রিয় চরিত্র ‘ঘনাদা’—একজন গল্পপ্রিয়, জ্ঞানগর্বী মেসবাড়ির বাসিন্দা। এছাড়া ‘পরাশর বর্মা’ চরিত্রটি একজন গোয়েন্দা, যার মধ্যে কবির সত্তাও বিদ্যমান। কিশোর পাঠকদের কাছে ‘মামাবাবু’ চরিত্রটিও বিশেষ জনপ্রিয়।

কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যে অবদান

বাংলা সাহিত্যে কল্পবিজ্ঞান ধারার পথিকৃৎদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর প্রথম কল্পবিজ্ঞান রচনা ‘পিঁপড়ে পুরাণ’। এছাড়া ‘পাতালে পাঁচ বছর’, ‘শুক্রে যারা গিয়েছিল’, ‘মনuদ্বাদশ’ প্রভৃতি রচনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

চলচ্চিত্র জগতে কাজ

সাহিত্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্র জগতেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তাঁর পরিচালিত কিছু চলচ্চিত্র হলো:

  • পথ বেঁধে দিল, রাজলক্ষ্মী ও নতুন খবর।
  • কালোছায়া, কুয়াশা এবং হানাবাড়ি।

🏆 পুরস্কার ও সম্মাননা

  • রবীন্দ্র পুরস্কার
  • সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার
  • পদ্মশ্রী
  • আনন্দ পুরস্কার
  • জগত্তারিণী স্বর্ণপদক
  • ডি.লিট (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)

⚰️ মৃত্যু

১৯৮৮ সালের ৩ মে কলকাতায় পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সাহিত্যচর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন।

home3