
নীল সমুদ্রের গভীরে উড়ল ভারতের গর্ব—বিশাল জাতীয় পতাকা। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের স্বরাজ দ্বীপে এই অভিনব উদ্যোগ গড়ে তুলল এক নতুন ইতিহাস। ৬০ মিটার বাই ৪০ মিটার আয়তনের এই বিশাল তিরঙ্গা সমুদ্রতলে উন্মোচন করে গড়া হল বিশ্বরেকর্ড, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এল।
আন্দামানে সমুদ্রের গভীরে উন্মোচন ভারতের বিশাল জাতীয় পতাকার:
শনিবার স্বরাজ দ্বীপের রাধানগর বিচে এই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। দক্ষ ডুবুরিদের পাশাপাশি এই উদ্যোগে অংশ নেয় ভারতীয় নৌ বাহিনী এবং কোস্ট গার্ড। সমুদ্রের তলায় এমন বৃহৎ আয়োজনে সকলের সমন্বয় এবং নিখুঁত পরিকল্পনা বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
এই অভিযানে ২০০ জনেরও বেশি ডুবুরি অংশ নেন, যা নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল তিন স্কুল পড়ুয়া ফতেহ জাহান সিং, লাবণ্য ইরা এবং রণবিজয় সিং। ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর-কিশোরীরা দেশের এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে গর্ব প্রকাশ করেছে। ভিন্ন ভিন্ন শহর থেকে আসা এই তরুণদের উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

সমুদ্রতলে জাতীয় পতাকা উন্মোচনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজ়মকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা। তবে এখানেই থেমে থাকছে না প্রশাসন। স্বরাজ দ্বীপের লাইটহাউস ডাইভ সাইটে ‘সবচেয়ে উঁচু হিউম্যান স্ট্যাক’ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যা নতুন আরেকটি বিশ্বরেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই ঘোষণায় পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস আরও বেড়েছে।
এই কৃতিত্বের জন্য ডুবুরিদের সাহস ও দক্ষতার প্রশংসা করেছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর ডি কে জোশি, মুখ্য সচিব চন্দ্র ভূষণ কুমার এবং পুলিশ আধিকারিক এইচ এস দালিবাল। শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে গিনিস বুকের বিচারক ঋষিনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়ে শংসাপত্র তুলে দেন প্রশাসনের হাতে, যা এই উদ্যোগকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
Credit – banglahunt.com
