
জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসি বরাবর বড়সড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা বানচাল করল ভারতীয় সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার গভীর রাতে সীমান্তের কাছে সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসতেই সেনারা সতর্ক হয়ে ওঠেন। এরপরই শুরু হয় গুলির লড়াই। সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযানে নিহত হয় লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে যুক্ত এক পাকিস্তানি জঙ্গি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরে অনুপ্রবেশ রুখল ভারতীয় সেনা, খতম লস্কর জঙ্গি
সেনা সূত্রে খবর, কয়েকজন সন্ত্রাসী একসঙ্গে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল বলে সন্দেহ করা হয়। নজরদারি ব্যবস্থায় তাদের গতিবিধি ধরা পড়তেই সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের সতর্ক করা হয়। সেনারা প্রথমে তাদের থামতে এবং ফিরে যেতে সতর্কবার্তা দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতীয় সেনা পোস্ট লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। এরপর সেনাবাহিনী পাল্টা জবাব দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা জুড়ে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন এক জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী। নিহত জঙ্গির কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং যোগাযোগের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমান, নিহত ব্যক্তি লস্কর-ই-তৈয়বার সক্রিয় সদস্য ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে নাশকতার উদ্দেশ্যে ঢোকার চেষ্টা করছিল। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী খতিয়ে দেখে জঙ্গিদের পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর গোটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা। ঘন জঙ্গল ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুযোগ নিয়ে আরও এক বা দু’জন জঙ্গি পালিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণে পুরো এলাকাকে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ড্রোন ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির সাহায্যে পাহাড়ি এলাকাগুলিতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে যাতে কোনও জঙ্গি পালিয়ে যেতে না পারে।
বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আসন্ন তীর্থযাত্রার মরসুমকে মাথায় রেখে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সুন্দরবানি এলাকায় অনুষ্ঠিত ত্রি-রেঞ্জ নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে জম্মু জোনের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ ভীম সেন টুপি সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে অনুপ্রবেশ বিরোধী ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সীমান্তে টহলদারি জোরদার এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
Credit – banglahunt.com
