Bangla Panjika 2026

জল্পনার অবসান! বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী, থাকবে না কোনও উপ মুখ্যমন্ত্রী

সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। আগামী শনিবার ব্রিগেডে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে।

পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অমিত শাহকে প্রধান পর্যবেক্ষক এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। বৈঠক শেষে অমিত শাহ জানান, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য মোট আটটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল এবং প্রতিটি প্রস্তাবেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হয়। অন্য কোনো নাম না আসায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাকেই নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। শাহ বলেন, “শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায়ের পুণ্যভূমিতে তাঁরই আদর্শের এক সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে।”

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম আসাটা রাজনৈতিক মহলে প্রত্যাশিতই ছিল। এর প্রধান কারণ, তিনি পরপর দুবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন। ২০২১-এর নন্দীগ্রাম জয়ের পর এবার তিনি ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। বিশেষত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড় ভবানীপুরে তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করে নিজের নেতৃত্ব প্রমাণ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলনেতার হাতে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় এক বিরল দৃষ্টান্ত।

গত ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন এবং বাকি ৬টি আসন পেয়েছেন অন্যান্য প্রার্থীরা।

এদিকে রাজ্যে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ৭ মে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হলেও তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভোটে কারচুপি করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যপাল আরএন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর বর্তমানে রাজ্যের শাসনভার সরাসরি রাজভবনের অধীনে রয়েছে।

শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় উপস্থিত থাকবেন। শুভেন্দু অধিকারী দ্রুতই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন।

home3