Bangla Panjika 2026

ইন্দ্রের পোশাক – শিক্ষামূলক কাহিনী

এক রাজা ছিলেন, তাঁর স্বভাব ছিল অত্যন্ত সহজ ও সরল। তাঁর কাছে একজন অত্যন্ত চতুর লোক এল। সে রাজাকে বলল- ‘অন্নদাতা! আপনি দেশের সাধারণ পোশাক পরেন, কিন্তু আপনি তো রাজা, আপনার ইন্দ্রের পোশাক পরা উচিত।’ রাজা বললেন- ‘ইন্দ্রের পোশাক?’ লোকটি বলল- ‘হ্যাঁ, আপনি যদি রাজি থাকেন, আমি এনে দিতে পারি।’ রাজা বললেন- ‘আচ্ছা, নিয়ে এসো। আমি ইন্দ্রের পোশাক পরব।’ লোকটি বলল-‘আপনি আমাকে এক লাখ টাকা দিন, পরে বাকি টাকা নেব। আপনি টাকা দিলে তবেই আমি ইন্দ্রের পোশাক আনব।’ রাজা তাকে টাকা দিলেন।

কয়েকদিন পর সেই লোকটি একটি অতি সুন্দর ঝকঝকে বাক্স নিয়ে এসে রাজসভার মধ্যে রাখে। সে বলল-‘দেখুন অন্নদাতা! এর মধ্যে ইন্দ্রের পোশাক রয়েছে। মানুষ একে দেখতে পাবে না। যার মা-বাবা আসল, সে-ই কেবল এটি দেখতে পাবে; কিন্তু যে প্রকৃত মা-বাপের সন্তান নয়, সে এই পোশাক দেখতে পাবে না।’ এবারে সে বাক্স থেকে পোশাক বার করার অভিনয় করতে লাগল। সে বলতে লাগল, ‘দেখো, এটা হল পাগড়ি, কী চমৎকার! এই দেখুন, কী সুন্দর ধুতি।’ লোকে বলতে লাগল, ‘আরে সত্যি তো কী সুন্দর পোশাক।’ প্রকৃতপক্ষে কেউই কোনো পোশাক দেখতে পাচ্ছিল না, কেননা কোনো পোশাক ছিলই না, তাহলে দেখবে কী করে? কিন্তু কেউই কিছু বলল না; কারণ কেউ যদি বলে পোশাক দেখতে পাচ্ছে না, তাহলে অন্যেরা হয়তো ভাববে যে সে আসল মা-বাবার সন্তান নয়। কেউ কেউ তো ভাবতে লাগল যে, বোধহয় আমার বাবা-মা আসল নয়, তাই আমি পোশাক দেখতে পাচ্ছি না, অন্যেরা হয়তো দেখতে পাচ্ছে! এইভাবে সকলেই ‘হ্যাঁ- হ্যাঁ’ করে গলা মেলাল। রাজাও কিছু বললেন না।

এবার লোকটি রাজাকে ইন্দ্রের পোশাক পরাতে আরম্ভ করল। প্রথমে ধুতি খুলে ইন্দ্রের ধুতি পরাল, তারপর জামা ও পরে পাগড়ি। আসলে সে কিছুই পরাল না শুধু পরানোর অভিনয় করল। তাতে ফল হল যে রাজা জন্মের সময় যেমন ছিলেন সেইরূপ অর্থাৎ সম্পূর্ণভাবে বস্ত্রহীন হয়ে গেলেন।

সেই অবস্থায় রাজা অন্দরমহলে গেলেন। রানিরা রাজাকে দেখে অবাক, রাজার কী হয়ে গেল! তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন-‘কী ব্যাপার! আপনি কি গাঁজা বা ভাং খেয়েছেন? কাপড় পরেননি কেন?’ রাজা বললেন- ‘তোমরা প্রকৃত মা-বাবার সন্তান নও, তাই তোমরা দেখতে পাচ্ছ না। এ হল ইন্দ্রের পোশাক!’ রানিরা বললেন- ‘রাজা! আপনি যত খুশি ইন্দ্রের পোশাক পরুন, কমপক্ষে ধুতিটা অন্তত নিজের দেশেরই পরুন।’

গল্পের নীতি

১. ভয়ের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করা সহজ
যখন মানুষের মনে সামাজিক ভয়, লজ্জা বা সম্মান হারানোর ভয় থাকে, তখন প্রতারকরা সেই ভয়কেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

২. সবাই চুপ থাকলে মিথ্যাই সত্য হয়ে যায়
অনেক সময় মানুষ সত্য জানলেও একা কথা বলতে চায় না। ফলে মিথ্যা ধীরে ধীরে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩. পদমর্যাদা নয়, বিচারবুদ্ধিই আসল শক্তি
রাজা হয়েও যদি বিচারবুদ্ধি না থাকে, তবে একজন সাধারণ ধূর্ত লোকও তাকে প্রতারণা করতে পারে।

৪. চাটুকারিতা সর্বনাশ ডেকে আনে
যারা সব সময় শুধু প্রশংসা করে, তারা অনেক সময় সত্য লুকিয়ে রাখে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

৫. সত্য বলার সাহস সমাজকে বাঁচায়
একজন সাহসী মানুষ সত্য বললে অনেক বড় ভুল ভেঙে যেতে পারে।

home3