
দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যার প্রতীক। আর দেবী মূর্তি বা ছবিতে তাঁর সঙ্গে বাহন হিসেবে দেখা যায় রাজহাঁসকে। ফলে মা সরস্বতীর সঙ্গে ভক্তের দলের কাছে পূজিত হয়ে থাকে ওই বাহনরূপী রাজহংস। এটা ঘটনা বাস্তবে একটা রাজহাঁসের যা দৈহিক গঠন তাতে কোনও একজন মানুষের ভার বহন করা সম্ভব নয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন ওঠে—
রাজহাঁসইকেই কেন সরস্বতীর বাহন রূপে দেখা যায়?
আসলে হাঁস এমন একটি প্রাণী যা জলে এবং স্থলে দু’জায়গায় চলাচল করতে পারে, আবার উড়তেও সক্ষম হওয়ায় অন্তরীক্ষেও বিরাজমান। অর্থাৎ জ্ঞানের ভাণ্ডার যেমন ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্রই তেমনই রাজহংসও সর্বত্র থাকতে সক্ষম।তাছাড়া হাঁস কাঁদায় মিশে থাকা স্থান থেকেও তার খাদ্য খুঁজে নিতে সক্ষম বলে দেখা যায়।
শুধু তাই নয় প্রবাদ আছে হংস খুবই বুদ্ধিমান ফলে জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম এই প্রাণীটি। জল ও দুধ মিশিয়ে দিলেও হাঁস শুধু সারবস্তু দুধটুকুই গ্রহণ করে এবং বাকী জলটুকু পাত্রে পড়ে থাকে। জ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রেও হংসের এ স্বভাব তাৎপর্য বহন করে।হাঁস অসারকে ফেলে শুধুমাত্র সারবস্তুই গ্রহণ করে।
সংসারে নিত্য ও অনিত্য দুটি বস্তুই বিদ্যমান। বিবেক বিচার দ্বারা নিত্য বস্তুর বিদ্যমানতা স্বীকার করে তা গ্রহণ করা শ্রেয়, অসার বা অনিত্য বস্তু সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য। হাঁস বেশির ভাগ সময়ই জলে বিচরণ করলেও দেখা যায় তার দেহে জল লাগে না। তাছাড়া মহাবিদ্যা প্রতিটি জীবের মধ্যে থেকেও জীবদেহের কোন কিছুতে তাঁর আসক্তি নেই, তিনি নির্লিপ্তা।
এই সব কারণেই মা সরস্বতীর সঙ্গে পূজিত হয়ে শিক্ষা দিচ্ছে-সবাই যেন সমস্ত অসার বা ভেজাল অথবা অকল্যাণকর পরিহার করে সারবাস্তু, ভালো কিছু অর্থাৎ নিত্যপরমাত্মাকে গ্রহণ করেন এবং পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করে সুন্দর পথে চলতে পারি।এমন যে প্রাণীর বৈশিষ্ট্য সেই রাজহাঁসই পারে দেবী সরস্বতী অথবা বিদ্যাকে বহন করতে।
