
স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন (৭ নভেম্বর, ১৮৮৮ – ২১ নভেম্বর ১৯৭০) ভারতের এই প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ‘রামন প্রভাব’ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বজুড়ে বিশেষ সম্মান অর্জন করেন। আলোর বিচ্ছুরণ সম্পর্কিত তার যুগান্তকারী গবেষণার ফলেই তিনি ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
শিক্ষাজীবন
রামনের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল তামিলনাড়ুর এক সাধারণ পরিবেশে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও কৌতূহলী। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৩ বছর বয়সে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন, যেখানে তাঁর পিতা অধ্যাপক ছিলেন। ১৯০৪ সালে মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করে পদার্থবিদ্যায় স্বর্ণপদক পান। ১৯০৭ সালে সর্বোচ্চ ডিস্টিংশনসহ মাস্টার অফ সায়েন্স (এম.এসসি) ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজের মেধার উজ্জ্বল প্রমাণ রাখেন।
কর্মজীবন ও আবিষ্কার
সরকারি চাকরিতে কিছুদিন কাজ করার পর ১৯১৭ সালে রামন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম অধ্যাপক পদে যোগ দেন। এই সময়েই তিনি ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অব সায়েন্স (IACS)-এ অবৈতনিকভাবে গবেষণা চালিয়ে যান এবং এখানেই তাঁর গবেষণাজীবনের সোনালী অধ্যায় শুরু হয়।
১৯২৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, রামন ও তাঁর সহযোগী কেএস কৃষ্ণান আলোর বিচ্ছুরণ নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে আবিষ্কার করেন এক অভূতপূর্ব ঘটনা — যা পরবর্তীতে “রমন প্রভাব” নামে খ্যাত হয়। এই আবিষ্কার আলোর কোয়ান্টাম প্রকৃতিকে নতুন করে ব্যাখ্যা দেয় এবং পদার্থবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
এই গবেষণার ফলস্বরূপ তিনি ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
সম্মান ও উত্তরাধিকার
রামনের অবদান শুধু তাঁর আবিষ্কারেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ভারতীয় বিজ্ঞান চর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করেছিলেন। তিনি Indian Journal of Physics নামের সাময়িক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। পরে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতিত্বও করেন। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীকালে ভারতের বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরও ১৯৮৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান, যা রামনের পারিবারিক ও বৈজ্ঞানিক উত্তরাধিকারের আরেক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
