Bangla Panjika 2026

গঙ্গাপূজার বিধি ও মন্ত্রাদি

গঙ্গা দশহরা

বাঙালির পার্বণের তালিকায় গঙ্গা দশহরা দিনটির একটি বিশেষ মাহাত্ম্য আছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই পবিত্র তিথিতে গঙ্গা স্বর্গ থেকে মর্তে আগমন করেছিলেন। গঙ্গার আগমনে রুক্ষ পৃথিবী হয়ে উঠেছিল শস্য শ্যামলা। নতুন করে স্পন্দন উঠেছিল ধরিত্রীর বুকে। গঙ্গার উত্তাল প্রবাহে পৃথিবী যাতে ধ্বংস না হয়, সেই কারণে স্বয়ং মহাদেব গঙ্গাকে নিজের জটায় আবদ্ধ করে ধীরে ধীরে পৃথিবীতে প্রবাহিত করেন। ধার্মিক বিশ্বাসে, শুভ কাজে অশুভের বিনাশ এবং পূর্ণ কর্মে অপূর্ণের বিনাশের কথা বলা হয়ে থাকে। প্রাচীন শাস্ত্রে দশহরা তিথিকে পূর্ণ তিথি বলা হয়েছে। এই তিথি উদযাপনে পূর্ব জন্মের দশটি পাপ এবং এ জন্মের দশটি পাপ বিনাশ হয়।

পূজা বিধি

জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষে দশমী তিথিতে। করিবে মায়ের পূজা শাস্ত্রবিধি মতে।।
গন্ধপুষ্প ধূপদীপ নববস্ত্র দিয়া। নানাবিধ ভোগ দ্রব্য যত্নে সাজাইয়া।।
পূজিবে গঙ্গারে মনে করিয়া কামনা। বৎসরান্তে পুনঃ পূজা হয়ে একমনা।।
দক্ষিণ হস্তেতে বাঁধি লাল গঙ্গাডুরি।
বর্ষভরি ভক্তি মনে গঙ্গাদেবী স্মরি।।
পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গা, ভক্তিমনে গঙ্গার জলে অবগাহনে সর্বপাপ মুক্ত হয়।
“গঙ্গায়াং পূজিতায়াং পূজিতাঃ সর্বদেবতাঃ।
তস্মাৎ সর্বপ্রযত্নেন পূজয়ে চমরা পগাম।।”
গঙ্গায় গঙ্গাদেবীর পূজা করলে সকল দেবতার পূজা করা হয়। অমরগণও দেবীকে পূজা করে থাকেন, গঙ্গাদেবীর পূজা অর্চনার দ্বারা মানুষ সৌভাগ্যের অধিকারী হয়। “গঙ্গাব্রত” নারী পুরুষ সকলেই করতে পারেন। সাধারণতঃ রমণীগণই ব্রত আচরণ করে থাকেন। আগের দিন নিরামিষ আহার অবশ্য কর্তব্য। যথাসময়ে হাত পা ধুয়ে শুদ্ধ বস্ত্র পরে দ্রব্যাদি গুছিয়ে নিয়ে পূজাসনে বসে আচমন, বিষ্ণু স্মরণাদি করে গণেশাদি দেবতার পূজা করতে হয়। তারপর স্বস্তিবাচন, সূক্ত পাঠাদির পর সঙ্কল্প করা প্রয়োজন।

বিশেষ আচার

দশহরার দিন গঙ্গা স্নান করলে, জাগতিক সমস্ত পাপ নাশ হয়। এই দিনের গঙ্গা স্নানে পুন্য অর্জন হয়। দশবিধ ফল দিয়ে দেবী গঙ্গার পূজা করা অবশ্য কর্তব্য। দেবী কর্মফল হরণ করে মুক্তি বা মহাফল প্রদান করেন। গঙ্গার উত্তাল প্রবাহ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে মহাদেব গঙ্গাকে জটায় ধারণ করে ধীরে ধীরে প্রবাহিত করেছিলেন। তাই এই দিন শিব পূজার বিশেষ চল রয়েছে। এই দিন শিবলিঙ্গকে গঙ্গা জল দিয়ে অভিষেক করলে মহাদেব প্রসন্ন হন এবং ভক্তের মনবাসনা পূর্ণ করেন। এই পবিত্র তিথিতে দান ধ্যান করলে বিশেষ ফল লাভ হয়। এই দিন দান করে যে পুন্য অর্জন করা হয় তার ফল পরবর্তী কয়েকটি জন্মে প্রবাহিত হয়।. অনেকে এই তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করেন। বিশ্বাস করা হয়, পুজোর পর কলা, নারকেল, বেদানা, ডালিম, পনির, ডাল দান করলে শত জন্মের পাপ বিনাশ হয়। লৌকিক বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন গঙ্গা স্নান করে দশটি প্রদীপ, দশটি ফল, দশটি ফুল দিয়ে দেবী গঙ্গাকে পূজা করলে পরনিন্দা, মিথ্যা বলা, চুরির মতো দশটি পাপের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

শ্রীশ্রী গঙ্গার ধ্যানমন্ত্র

সুরূপানং চারুনেত্রাঞ্চ চন্দ্রাযুক্তসম প্রভাৎ।
চামরৈবীজ্যমানাস্তু শ্বেতচ্ছত্রোপশোভিতাম্।
সুপ্রসন্নাং সুবদনাং করুণাদ্র নিজান্তরাং।
সুধা প্লাবিতভূপৃষ্ঠামাদ্র গন্ধানুলেপনাং ॥
ত্রৈলোক্য নমিতাং গঙ্গাং দেবাদিভিরটুতাম্।।
ওঁ গাং গঙ্গায়ৈ বিশ্বমুখ্যায়ৈ শিলামৃতায়ৈ শান্তিপ্রদায়িনৈ নারায়ণ্যৈ নমোনমঃ।

শ্রীশ্রী গঙ্গার জপমন্ত্র

ওঁ গঙ্গায়ৈ শিবায়ৈ নারায়ণ্যৈ নমো নমঃ।

শ্রীশ্রী গঙ্গার প্রণামমন্ত্র

সদ্যঃ পাতক সংহন্ত্রী সদ্যোদুঃখ বিনাশিনী।
সুখদা মোক্ষদা গঙ্গা গঙ্গৈব পরমা গতিঃ ॥

শ্রীশ্রী গঙ্গার পুষ্পাঞ্জলিমন্ত্র

এতৎ সচন্দন পুষ্প বিল্ব পত্রাঞ্জলি গাং গঙ্গায়ৈ বিশ্বমুখ্যায় শিবমৃতায়ৈ শান্তিপ্রদায়িণ্যৈ গঙ্গায়ৈ নমঃ।।

কৃতাঞ্জলি মন্ত্র

ওঁ গঙ্গে দেবী জগন্মাতঃ পাদাভ্যাং সলিলং তব।
স্পৃশামীত্যপরাধং মে প্রসন্না ক্ষন্তুমর্হসি।।
স্বর্গারোহণসোপানং ত্বদীয়মুদকং শুভে।
অতঃ স্পৃশামি পাদাভ্যাং গঙ্গে দেবী নমোহস্তু তে।।

স্নান মন্ত্র

ওঁ বিষ্ণুপাদার্ঘ্য সম্ভূতে গঙ্গে ত্রিপথ গামিনি।
ধর্মদ্রবীতি বিখ্যাতে পাপং মে হর জাহ্নবী।।
শ্রদ্ধায়া ভক্তিসম্পন্নে শ্রীমাতদেবী জাহ্নবী।
অমৃতেনাম্বুনা দেবী ভাগীরথী পুনীহি মাম্।।

ক্রেডিট 🙏 – outscar

home3