
বৌদ্ধ ও সনাতন—উভয় ধর্মাবলম্বীদের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা এক অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই দিনটি গৌতম বুদ্ধ-এর জন্ম, বোধিলাভ (জ্ঞানপ্রাপ্তি) এবং মহাপরিনির্বাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে পালিত হয়। তাই এই পূর্ণিমা তিথি আধ্যাত্মিকভাবে বিশেষ মর্যাদা বহন করে।
নেপালের লুম্বিনী-তে রাজা শুদ্ধোধন ও রানি মায়াদেবী-এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন বুদ্ধ। পরবর্তীতে তিনি কপিলাবস্তু নগরে রাজকীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। কিন্তু রাজপুত্র হয়েও বিলাসিতা বা ভোগবিলাসের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল না। সংসার জীবনে স্ত্রী যশোধরা এবং পুত্র রাহুল থাকলেও তিনি মানবজীবনের গভীর সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিবেদিত করেন।
জীবনের অনিত্যতা উপলব্ধি করতে গিয়ে তিনি জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর চেতনায় এক গভীর পরিবর্তন আনে। এরপর তিনি রাজ্য, সম্পদ ও পারিবারিক বন্ধন ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন এবং কঠোর সাধনার মাধ্যমে বোধিলাভ করেন। তাঁর প্রদর্শিত পথই পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মানবকল্যাণের এক মহান দিশা হয়ে ওঠে।
এই পবিত্র উপলক্ষে মানুষ শান্তি, সহমর্মিতা ও সত্যের পথে চলার অঙ্গীকার করে। বুদ্ধপূর্ণিমা তাই কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং মানবতার চেতনাকে জাগ্রত করার এক অনন্য দিন।
