
সীতা নবমী হিন্দু ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনটি দেবী সীতার জন্মতিথি হিসেবে পালিত হয়। সীতা নবমীর দিনে বিবাহিত নারীরা উপবাস পালন করেন এবং তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করে প্রার্থনা করেন। সীতা নবমীকে সীতা জয়ন্তী এবং জানকী নবমী নামেও ডাকা হয়। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়।
বিশ্বাস করা হয়, মা সীতার জন্ম পুষ্য নক্ষত্রে এবং মঙ্গলবারে হয়েছিল। দেবী সীতার বিবাহ হয়েছিল ভগবান রামের সঙ্গে। ভগবান রামও চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, রাম নবমীর এক মাস পরেই সীতা জয়ন্তী পালিত হয়।
দেবী সীতা ছিলেন মিথিলার রাজা জনকের দত্তক কন্যা। তাই এই দিনটি জানকী নবমী নামেও পরিচিত। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রাজা জনক যখন যজ্ঞের ভূমি পরিষ্কার করার জন্য লাঙল চালাচ্ছিলেন, তখন লাঙলের ফলায় মাটির নিচ থেকে একটি শিশুকন্যা আবির্ভূত হন। লাঙলের রেখাকে বা ফলার দাগকে সংস্কৃতে ‘সীতা’ বলা হয়, আর যেহেতু তিনি সেই ভূমি বা ‘সীতা’ থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই রাজা জনক সেই কন্যার নাম রাখেন সীতা।
সীতা নবমীর দিনে সারা দেশে ভগবান রাম ও জানকী মন্দিরে বিশেষ পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। মন্দিরগুলো ফুল ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। রামায়ণ পাঠের পর বিভিন্ন স্থানে ভজন-সংগীতের আয়োজন হয়। অনেক জায়গায় রাম রথযাত্রাও বের করা হয়, যেখানে ভক্তরা ‘জয় সিয়া রাম’ ধ্বনি দেন এবং ভক্তিমূলক গান গেয়ে এগিয়ে যান।
সীতা নবমীর পূজা
সীতা নবমীর দিনে দেবী সীতার পূজা করা হয়। বিবাহিত নারীরা এই দিনে উপবাস পালন করে তাঁদের স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বিশ্বাস করা হয়, সীতা নবমীর উপবাস পালন করলে মানুষের মধ্যে লজ্জাশীলতা, মাতৃত্ববোধ, ত্যাগ এবং নিষ্ঠার মতো গুণাবলি বৃদ্ধি পায়। দেবী সীতা ও ভগবান রামের একসঙ্গে পূজা করলে দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি বজায় থাকে।
