Bangla Panjika 2026

বেসরকারি হাসপাতালে কমবে চিকিৎসার খরচ! আমজনতাকে স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র

বর্তমানে মানুষ একটু ভালো চিকিৎসা পরিষেবার আশায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর ভরসা বেশি করে। তবে কিছু কিছু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয় ওঠানো রীতিমতো অসাধ্যকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষের কাছে। তাই সে সমস্ত হাসপাতালগুলোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসার বাড়তি খরচ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। হাসপাতালের বিলের অঙ্ক অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সূত্রের খবর, চিকিৎসা পরিষেবার খরচ কমিয়ে রোগী ও তাঁদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের:

এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য, হাসপাতালগুলিতে ব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিক্যাল ডিভাইসের উপর অতিরিক্ত চার্জের লাগাম টানা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে কোনও চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিতে পারবে না। ফলে রোগীদের আর অতিরিক্ত বিলের বোঝা বইতে হবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব সাধারণ চিকিৎসা সামগ্রী প্রতিদিন ব্যবহৃত হয়, যেমন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা, গ্লাভস, সেগুলির দাম নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পেসমেকার, হার্ট ভালভের মতো দামি সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মূল্যসীমা বেঁধে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। কারণ, তদন্তে দেখা গিয়েছে অনেক ক্ষেত্রে এই সব সামগ্রীর প্রকৃত দামের তুলনায় বহু গুণ বেশি টাকা নেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৩ টাকার একটি সিরিঞ্জের জন্য রোগীর কাছ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে ৬ টাকার আইভি ক্যানুলার দাম বিলে দেখানো হয়েছে ১২০ টাকা। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, পেসমেকারের মতো যন্ত্রের ক্ষেত্রে যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার টাকা, সেটি হাসপাতালে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চার্জ করা হচ্ছে। আমদানিকৃত হার্ট ভালভের ক্ষেত্রেও একই চিত্র, যেখানে প্রকৃত দাম ৪ লক্ষের কাছাকাছি হলেও বিলে তা ২৬-৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে চিকিৎসা খাতে অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলির উপর নজরদারি বাড়লে চিকিৎসা পরিষেবার মান ও জবাবদিহিতাও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Credit – banglahunt.com

home3