Bangla Panjika 2026

জ্বালানি সঙ্কটে পড়শি দেশ! ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে আরও ৭,০০০ টন ডিজেল

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতেও। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল ভারত। পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও প্রায় সাত হাজার টন ডিজ়েল রফতানি করছে ভারত, যা জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে আরও ৭,০০০ টন ডিজেল

অসমের নুমালিগড় তৈল শোধনাগার থেকে এই ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকেই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছতে শুরু করেছে এবং সোমবারের মধ্যেই সম্পূর্ণ পরিমাণ তেল পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সরবরাহ হওয়ায় পরিবহণ প্রক্রিয়া দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি সঙ্কটের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক সরবরাহে ব্যাঘাত। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চ মাসে মোট ১৭টি জাহাজে ডিজ়েল পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯টি জাহাজ পৌঁছেছে। একটি জাহাজ বর্তমানে বাংলাদেশের পথে থাকলেও বাকি সাতটির আগমন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় ভারতের এই অতিরিক্ত সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় সহায়তা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং বিকল্প উৎস চালু থাকায় আপাতত বড় কোনও সঙ্কটের আশঙ্কা নেই। তিনি আরও জানান, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিজ়েল সরবরাহ করা হয়, এবং বর্তমানে যে জ্বালানি আসছে তা সেই চুক্তিরই অংশ।

এর আগেও ভারত পাঁচ হাজার টন ডিজ়েল পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, যা পর্বতপুর সীমান্ত দিয়ে পৌঁছেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ভারত প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজ়েল বাংলাদেশে রফতানি করে থাকে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও এই ধারাবাহিক সরবরাহ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করছে এবং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

source – banglahunt.com

home3