
বাংলায় ভোট একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে। এর মধ্যেই বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করতে সরাসরি মাঠে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভোটের আগে বুথ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উঠে আসে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বুথ কর্মীদের কি বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী?
প্রথম দফার ভোটের আর খুব বেশি দেরি নেই। তার আগেই বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। সেই কারণেই সরাসরি বুথ কর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ তুলে ধরতে হবে, যেখানে সিন্ডিকেট রাজ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এদিন মোদী তাঁর বক্তব্যে বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি, সবকিছুই চরমে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে মহিলা ও যুব সমাজ এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বুথ কর্মীদের তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই অসন্তোষকে সামনে আনতে হবে এবং বোঝাতে হবে, এই পরিস্থিতিতে উন্নয়ন সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বুথ কর্মীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কোন ইস্যু নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে, কীভাবে প্রচার চালাতে হবে, সবই একপ্রকার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, বুথ স্তরে ভালো ফল করলে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
এদিকে, এই কর্মসূচিকে ঘিরে তৃণমূলের তরফেও কটাক্ষ শোনা গেছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “পায়ের তলায় মাটি নেই বলেই এমন কর্মসূচি। বুথ কর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে সংখ্যা দেখিয়ে খুশি থাকছেন প্রধানমন্ত্রী।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের শেষ লগ্নে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ বুথ কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীদের আক্রমণও যে তীব্র হচ্ছে, তা এই প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট।
source – banglahunt.com
