Bangla Panjika 2026

যাত্রী সুরক্ষায় রেলের জোরদার উদ্যোগ! দূরপাল্লার সব ট্রেনে বসছে সিসিটিভি

দূরপাল্লার ট্রেনে যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল। খড়গপুর ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শিগগিরই সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনের কামরায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতেই এই নজরদারির পরিকল্পনা বলে জানিয়েছে আরপিএফ।

আরপিএফ জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যেই খড়গপুর ডিভিশনের অধীনে থাকা সব দূরপাল্লার ট্রেনের কামরায় সিসিটিভি বসানোর কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যেই সাঁতরাগাছি রেল কোচ ডিপোতে বিভিন্ন ট্রেনের কামরায় ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন তৈরি হওয়া এলএইচবি এবং আইসিএফ কোচগুলিতেও সিসিটিভি লাগানো হচ্ছে।

রেল সূত্রে খবর, প্রতিটি ট্রেনের প্রতিটি কামরায় চারটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। আরপিএফের দাবি, এতে ট্রেনের ভিতরের যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা দ্রুত ধরা পড়বে, দুষ্কৃতীদেরও চিহ্নিত করা সহজ হবে।

আরপিএফের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সব ট্রেনে এসকর্ট দেওয়া সম্ভব হয় না। এর ফলে বারবার অরক্ষিত ট্রেনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ। গত সপ্তাহেই ধৌলি এক্সপ্রেসে এক মহিলা যাত্রী, সুরমা হাজরা, ছিনতাইয়ে বাধা দিতে গিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন এবং তাঁর ডান হাতটি খোয়াতে হয়। অনেকের মতে, আরপিএফ থাকলে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যেত। এই ঘটনার পর থেকেই রেলযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। তাই রেল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি বসানোর কাজে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।

রেলসূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, চার মাস আগেই রেল বোর্ড নির্দেশিকা জারি করে জানায়, দেশজুড়ে প্রতিটি ট্রেনের কামরায় সিসিটিভি বসানো হবে। মোট ৭৪ হাজার ট্রেনের কামরায় এই ব্যবস্থা আনা হবে। শুধু দূরপাল্লার ট্রেন নয়, ভবিষ্যতে লোকাল ট্রেনেও সিসিটিভি বসানো হবে, কারণ লোকালে আরপিএফ এসকর্ট থাকে না বললেই চলে।

খড়গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল সিকিউরিটি কমিশনার প্রকাশকুমার পান্ডা জানান, “নজরদারি তো নিয়মিত হয়, কিন্তু সব ট্রেনে কর্মীর অভাবে এসকর্ট দেওয়া যায় না। তাই প্রথমে দূরপাল্লার ট্রেনেই সিসিটিভি বসানো হচ্ছে। ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য। পরে লোকালে-ও বসানো হবে।” তবে লোকাল ট্রেনে সিসিটিভি বসানোর কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনই জানাতে চাননি তিনি।

source – banglahunt.com

home3