
একদিন এক গেরস্থের পোষা কুকুরের সঙ্গে এক বাঘের দেখা হয়। দুদিন শিকার না পেয়ে অনাহারে বাঘ খুবই কাহিল হয়ে পড়েছিল। তাই হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছিল তার।
পোষা কুকুরের টগবগে তাজা চেহারা দেখে বাঘ কুকুরকে বলল, ভাই, তোমার তো বেশ হৃষ্টপুষ্ট চেহারা দেখছি, কি করে এমন হল। দু’বেলা খাবার কোথায় পাও?
তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে আমার মতো তোমাকে খাবারের কষ্ট পেতে হয় না। আমি আজ দু’দিনের উপোসী।
বাঘের কথা শুনে কুকুরের মনে দয়া হল। সে বলল, আমি দু’বেলাই পেট ভরে খেতে পাই আমার মনিবের বাড়িতে। আমি যে কাজ করি তুমি যদি তা করতে রাজি থাক তা হলে তোমারও খাবারের কষ্ট থাকবে না।
কুকুরের কথায় উৎসাহিত হয়ে বাঘ বলল, কাজের কথাটা বল ভাই, শুনি। আমাকে কি কাজ করতে হবে?
কুকুর বলল, কাজ এমন কিছু নয়। শুধু রাতের বেলা মনিবের বাড়ি পাহারা দিতে হবে।
বাঘ বলল, এ আর এমন কি শক্ত কাজ। আমি রাজি। রোজ রোজ খাবারের কষ্ট আর সইতে পারছি না।
খিদের সময় যদি পেট ভরে দুটো খেতে পাই তা হলে আর কোন ভাবনা থাকে না।
কুকুর বলল, আহা, তোমার দেখছি খুবই কষ্ট। চল আমার সঙ্গে। প্রভুকে বললে তোমারও কাজের ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
বাঘ তখন কুকুরের সঙ্গে চলল। যেতে যেতে হঠাৎ বাঘের নজর পড়ল কুকুরের গলার দিকে।
কুকুরের গলা ঘিরে একটা সাদা দাগ। অবাক হয়ে বাঘ বলল, ভাই, তোমার গলায় ওটা কিসের দাগ?
কুকুর হেসে বলল, ও কিছু নয়। ওটা প্রভুর দেওয়া শেকলের দাগ।
বাঘ বলল, শেকলের দাগ গলায় কেন?
কুকুর বলল, দিনের বেলায় আমার গলায় শেকল পড়ানো থাকে কিনা। ওই সময়টা আমাকে বাঁধা থাকতে হয়।
কুকুরের কথা শুনে বাঘ আঁৎকে উঠল। সে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, তোমার প্রভু তোমাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখে। তা হলে দেখছি তুমি ইচ্ছে মত যেখানে খুশি সেখানে যেতে পার না।
কুকুর হেসে বলল, শুধু তো দিনের বেলাটা। রাতে আমি যেখানে খুশি যেতে পারি।
বাঁধা থাকলেই বা কি হয়, প্রভু আমার খুব যত্ন করেন। ভাল ভাল খাবার খেতে দেন। গায়ে হাত বুলিয়ে কত আদর করেন।
বাঘ এবার বলল, ভাই, বড় সাংঘাতিক কথা শোনালে আমায়।
ও রকম সুখ আমার সইবে না।
খাবারের লোভে আমি বাঁধা পড়তে চাই না। বনের স্বাধীন জীবনই আমার কাম্য।
নীতিবাক্য: স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?
