Bangla Panjika 2026

শেয়াল ও সারস – নীতিমূলক গল্প

একদিন এক শেয়াল তামাসা করবার জন্য এক সারসকে বলল, ভাই, কাল দুপুরে আমার বাড়িতে তোমার খাবার নিমন্ত্রণ। ঠিক সময়ে চলে এসো, দু’জনে মিলে বেশ গল্পও করা যাবে।

সারস খুসি হয়ে বলল, তোমার বাড়িতে নিমন্ত্রণ, আমি কি না গিয়ে থাকতে পারি শেয়াল ভায়া? নিশ্চয়ই যাব

পরদিন দুপুরে সারস শেয়ালের বাড়িতে উপস্থিত হল। শেয়াল তৈরি হয়েই ছিল। এসো, এসো ভায়া, বলে সে সারসকে ডেকে ঘরের ভিতরে নিয়ে গেল।

একটা বড় থালায় মাংসের ঝোল ঢেলে নিয়ে শেয়াল সারসকে বলল, আর বেলা করে কি কাজ। এসো ভায়া, খেতে বসা যাক। এই কথা বলে শেয়াল জিভ দিয়ে চেটে থালার মাংসের ঝোল খেতে আরম্ভ করল।

সারসও খাবে বলে এগিয়ে বসেছে। কিন্তু বেচারার যা লম্বা ঠোঁট, তা দিয়ে কি আর থালা থেকে ঝোল তুলে খাওয়া যায়? তার ঠোঁট গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া উপায় কি?

তবুও ভদ্রতা রক্ষার জন্য লম্বা ঠোঁট দিয়ে খানিকক্ষণ থালার ঝোল নাড়াচাড়া করল।

সারসকে এ ভাবে জব্দ করতে পেরে শেয়াল বেশ মজা পাচ্ছে। কিন্তু মুখে দুঃখ দুঃখ ভাব এনে সে বলল, ভাই সারস, তুমি যে কিছুই খাচ্ছ না? রান্নাটা পছন্দ হয়নি বুঝি? যা হোক কিছু খাও, না হলে আমি বড়ই দুঃখ পাব।

শেয়ালের কথাবার্তা শুনে বুদ্ধিমান সারস বুঝতে পারল, ধূর্ত শেয়াল তামাসা করার জন্যই তাকে খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেছিল। সারস বলল, তোমার মাংসের ঝোলটা খুবই চমৎকার হয়েছে শেয়াল ভায়া। তার সুগন্ধেতেই আমার পেট ভরে গেছে।

সারসকে সেদিন পেটের ক্ষিদে পেটে নিয়েই বাড়ি ফিরতে হল। বিদায় নেবার সময় সারস শেয়ালকে বলল, তোমার বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেয়ে বড় তৃপ্তি পেলাম শেয়াল ভায়া। কাল কিন্তু আমার বাড়িতে তোমাকে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে হবে। ঠিক সময়ে চলে এসো ভায়া।

শেয়াল বলল, অবশ্যই অবশ্যই যাব।

পরদিন শেয়াল সারসের বাড়িতে উপস্থিত হল। সারস শেয়ালকে উচিত জবাব দেবার মতো সব আয়োজনই করে রেখেছিল। এসো ভায়া, এসো ভায়া বলে সে খুব সমাদর করে শেয়ালকে ঘরে নিয়ে গিয়ে বসাল।

সরু গলার কুঁজোর মত একটা পাত্রে মাংসের টুকরো রেখে সারস শেয়ালকে খেতে ডাকল, এসো ভায়া, খেতে বসা যাক। এ কথা বলে সারস তার সরু ঠোঁট পাত্রের মুখে ঢুকিয়ে মাংসের টুকরো তুলে তুলে খেতে লাগল।

শেয়ালের পক্ষে তো ওই কুঁজোর মধ্যে মুখ ঢোকানো সম্ভব নয়। সে বসে বসে কুঁজোর গা চাটতে লাগল।

খাওয়া শেষ হলে সারস শেয়ালকে জিজ্ঞেস করল, ভাই, মাংস কেমন খেলে? রান্নাটা পছন্দ হয়েছিল তো?

শেয়ালের মুখ চুণ। সারস যে তাকে এ ভাবে জব্দ করবে তা সে ভাবতে পারেনি। শেয়াল দায়সারা গোছের দু-একটা কথা বলে বিদায় নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হল।

যেতে যেতে শেয়াল নিজের মনে বলতে লাগল, সারসের আর দোষ কি আমিই তো তাকে এ পথ দেখিয়েছি।

নীতিবাক্য: ঢিল ছুঁড়লে পাটকেলটি খেতেই হয়।

home3