
বাংলা সাহিত্যের ভুবনে নবীনচন্দ্র সেন (১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৪৭ – ২৩ জানুয়ারি, ১৯০৯) এক অনন্য কাব্যপ্রতিভা। শক্তিশালী কল্পনা, ইতিহাসনির্ভর রচনাশৈলী এবং ভক্তিভাবনামূলক কাব্যরীতির কারণে তিনি সমসাময়িক কবিবর্গের মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি লাভ করেন। বাংলা মহাকাব্যিক ধারাকে নতুন মাত্রা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
প্রাথমিক জীবন
চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার পশ্চিম গুজরার (নোয়াপাড়া) প্রাচীন জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা গোপীমোহন সেন এবং মাতা রাজরাজেশ্বরীর স্নেহ-শিক্ষায় বড় হয়ে ওঠেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য ও বিদ্যার প্রতি আকৃষ্ট হন। তাঁর পারিবারিক পরিবেশই তাঁর মনের গভীরে সাহিত্যের বীজ বপন করেছিল।
শিক্ষাজীবন
পাঁচ বছর বয়সে শিক্ষার সূচনা। পরে চট্টগ্রাম স্কুলে অধ্যয়ন করে প্রথম শ্রেণিতে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফ.এ পাস করেন এবং পরবর্তীতে জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইন্সটিটিউশন (বর্তমান স্কটিশ চার্চ কলেজ) থেকে বিএ সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর মেধা ও সাহিত্যরুচি সবার নজরে আসে।
ফেনী শহরের রূপকার ✨
ফেনীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি প্রায় আট বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানে একটি জঙ্গলাকীর্ণ অঞ্চলকে পরিণত করেন একটি উন্নত শহরে। তাঁর উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় ফেনী হাই স্কুল, যা আজ ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল নামে পরিচিত।
কর্মজীবন ও সাহিত্যচর্চা
শিক্ষাজীবন শেষে প্রথমে হেয়ার স্কুলে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনের সূচনা হলেও কিছুদিন পর পরিবর্তন আসে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর তিনি মহকুমা শাসক পদে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।
প্রধান গ্রন্থসমূহ 📚
মহাকাব্য ও অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
- পলাশির যুদ্ধ (মহাকাব্য)
- রৈবতক (মহাকাব্য)
- কুরুক্ষেত্র (মহাকাব্য)
- প্রভাস (মহাকাব্য)
- অমিতাভ (বুদ্ধদেবের জীবন)
- অমৃতাভ (শ্রীচৈতন্যের জীবন)
- আমার জীবন (আত্মজীবনী)
- খ্রীস্ট (যীশুর জীবন)
উপসংহার
নবীনচন্দ্র সেন বাংলা সাহিত্যে এমন এক কবি, যিনি ঐতিহাসিক, পৌরাণিক ও ভক্তিবাদী সাহিত্যকে এক নতুন শিল্পরূপ দিয়েছেন। তাঁর মহাকাব্যধর্মী রচনাগুলো শুধু সাহিত্যেই নয়, বাঙালি সংস্কৃতি ও ভাবজগতেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে।
