Bangla Panjika 2026

বারীন্দ্রকুমার ঘোষ: অগ্নিযুগের অন্যতম প্রধান বিপ্লবী

বারীন্দ্রকুমার ঘোষ (৫ জানুয়ারি ১৮৮০ – ১৮ এপ্রিল ১৯৫৯) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের অন্যতম প্রধান বিপ্লবী। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত ঋষি শ্রী অরবিন্দের ভ্রাতা। মহান এই বিপ্লবী যেমন সশস্ত্র সংগ্রামের পথ দেখিয়েছিলেন, তেমনি কলম হাতে সাংবাদিক ও কবি হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি বিখ্যাত ‘যুগান্তর’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘ সময় ‘দৈনিক বসুমতী’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

জন্ম ও বংশপরিচয়

তিনি ব্রিটেনের লন্ডনের নিকটস্থ একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস অধুনা পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোন্নগরে। তিনি কোন্নগরের অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ঘোষবংশের সন্তান।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ও মুরারিপুকুর বাগানবাড়ি ✨

ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে বারীন্দ্রকুমার ঘোষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তাঁর অকুতোভয় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের জন্য। কলকাতার ৩২ নং মুরারিপুকুরের বাগানবাড়িটি তাঁর পরিকল্পনায় বোমা তৈরির কারখানায় রূপান্তরিত হয়েছিল, যা ছিল ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়ার এক দুঃসাহসী প্রচেষ্টা।

আলিপুর বোমা মামলা ও কারাদণ্ড

মুজফফরপুরে ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে বোমা নিক্ষেপের ঘটনার পর ঐতিহাসিক ‘আলিপুর বোমা মামলা’ শুরু হয়। এই মামলায় বারীন্দ্রকুমার ঘোষ সহ অনেক বিপ্লবীকে অভিযুক্ত করা হয়। বিচারে প্রথমে তাঁকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে তা পরিবর্তিত হয়ে যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর দণ্ড হয়। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় তিনি কারান্তরালে বন্দি জীবন অতিবাহিত করেন। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় তাঁর অগ্রজ অরবিন্দ ঘোষ মুক্তি পেয়েছিলেন।

শেষ জীবন ও সাহিত্য সাধনা

কারামুক্তির পর তিনি তাঁর মেধা ও সময়কে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার কাজে নিয়োজিত করেন। পরবর্তী জীবনে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ‘দৈনিক বসুমতী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রামানন্দ’ লেকচারার হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর বৈপ্লবিক আদর্শ ও জীবনবোধ সব সময় তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

উল্লেখযোগ্য রচনাবলী 📚

  • দ্বীপান্তরের বাঁশি
  • পথের ইঙ্গিত
  • আমার আত্মকথা
  • অগ্নিযুগ
  • ঋষি রাজনারায়ণ
home3