Bangla Panjika 2026

নিকোলা টেসলা: আধুনিক বিদ্যুৎ ও বেতার প্রযুক্তির স্থপতি

নিকোলা টেসলা (১০ জুলাই ১৮৫৬ – ৭ জানুয়ারি ১৯৪৩) ছিলেন একজন সার্বিয়ান–আমেরিকান উদ্ভাবক, তড়িৎ ও যন্ত্র প্রকৌশলী এবং দূরদর্শী চিন্তাবিদ। আধুনিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ (AC) ব্যবস্থা, আবেশ মোটর এবং তারবিহীন শক্তি ও যোগাযোগের ধারণায় তিনি বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য স্থান অধিকার করে আছেন। আজকের বিদ্যুৎব্যবস্থা, রেডিও ও বেতার প্রযুক্তির ভিত গড়ে উঠেছে তাঁরই চিন্তা ও গবেষণার ওপর।

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন

ইউরোপে বেড়ে ওঠা টেসলা প্রকৌশল ও পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যয়ন করেন। প্রথাগত ডিগ্রি সম্পূর্ণ না করলেও তাঁর অসাধারণ স্মৃতিশক্তি, কল্পনাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা তাঁকে খুব দ্রুত তড়িৎবিজ্ঞানের জগতে আলাদা করে তুলে ধরে। ছাত্রজীবনেই বিদ্যুৎ ও চৌম্বকত্বের জটিল বিষয় তাঁর গভীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

কর্মজীবন ও বৈজ্ঞানিক অবদান

যুক্তরাষ্ট্রে এসে টেসলা প্রথমে থমাস এডিসনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তবে বৈজ্ঞানিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই নিজস্ব গবেষণার পথে এগিয়ে যান। পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহভিত্তিক আবেশ মোটর ও পলিফেজ সিস্টেম তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাফল্য, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।

তারবিহীন শক্তি ও দূরদর্শী ভাবনা ✨

টেসলা বিশ্বাস করতেন, একদিন সারা পৃথিবীতে তার ছাড়াই বিদ্যুৎ ও তথ্য আদান–প্রদান সম্ভব হবে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি নিউইয়র্ক ও কলোরাডো স্প্রিংসে বিস্তৃত গবেষণা চালান এবং ওয়ার্ডেনক্লিফ টাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী তারবিহীন যোগাযোগ ও শক্তি পরিবহনের পরিকল্পনা করেন। যদিও প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করা যায়নি, তাঁর এই চিন্তাধারা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির পথ দেখিয়ে যায়।

অন্যান্য উদ্ভাবন ও গবেষণা

টেসলা কয়েল, উচ্চ ভোল্টেজ ও উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির পরীক্ষা, তারবিহীন আলো, এক্স-রে সম্পর্কিত গবেষণা এবং রেডিও নিয়ন্ত্রিত নৌকার মতো উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি বিজ্ঞানী সমাজকে বিস্মিত করেন।

  • টেসলা কয়েল: উচ্চ ভোল্টেজ ও উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি তৈরির বিশেষ যন্ত্র।
  • এক্স-রে গবেষণা: ছায়াচিত্র ও বিকিরণ সংক্রান্ত প্রাথমিক পরীক্ষা।
  • বেতার প্রযুক্তি: রেডিও নিয়ন্ত্রিত নৌকা ও রিমোট কন্ট্রোলের ভিত্তি।
  • তারবিহীন আলো: তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশের মাধ্যমে আলো জ্বালানো।

স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকার

চৌম্বকীয় প্রবাহ ঘনত্বের এসআই একক তাঁর সম্মানে “টেসলা” নামে পরিচিত। জীবদ্দশায় তিনি সবসময় আর্থিক সাফল্য বা যথাযথ স্বীকৃতি পাননি, তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর গবেষণা ও ভাবনার গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যায়িত হয়েছে।

প্রধান অবদানসমূহ 📚

  • পরিবর্তী প্রবাহ (AC System)
  • আবেশ মোটর (Induction Motor)
  • টেসলা কয়েল
  • তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা
  • রেডিও প্রযুক্তির ভিত্তি
  • রিমোট কন্ট্রোল নৌকা
  • পলিফেজ সিস্টেম
  • উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি গবেষণা

উপসংহার

নিকোলা টেসলা ছিলেন এমন এক অসাধারণ প্রতিভা, যিনি নিজের সময়ের বহু আগেই ভবিষ্যৎকে দেখতে পেয়েছিলেন। বিদ্যুৎ ও বেতার প্রযুক্তির জগতে তাঁর চিন্তা, সাহসী কল্পনা ও নিরলস গবেষণা আজও মানবসভ্যতার অগ্রগতিতে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

home3