
রাতে ঘুম ভেঙে বারবার বাথরুমে যাওয়া—অনেকেই এটাকে সাধারণ অভ্যাস বলে ভাবেন। দেরিতে জল পান, চা-কফি খাওয়া বা ঘুমের রুটিনের দোষ দিয়েই বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু যখন এই সমস্যা নিয়মিত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে থাকে, তখন এটি শরীরে লুকিয়ে থাকা কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
কেন পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু পুরুষের প্রস্টেট গ্রন্থি স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হতে শুরু করে। এই অবস্থাকে বলা হয় বিনাইন প্রস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH)।
প্রস্টেট বড় হলে তা ইউরেথ্রাকে চেপে ধরে এবং প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
🔹রাতে বারবার প্রস্রাবের তাগিদ (নকচুরিয়া)
🔹প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া
🔹প্রস্রাব থেমে থেমে বের হওয়া
🔹প্রস্রাব শেষে ফোঁটা ফোঁটা পড়া
🔹মনে হওয়া যে ব্লাডার পুরো খালি হয়নি
এই সমস্যাগুলো জীবনের মান কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘদিন অবহেলা করলে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
⚠️ কেন এটিকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি?
শরীর যখন বারবার রাতে আপনাকে জাগিয়ে তোলে, তখন বুঝতে হবে কোথাও গলদ আছে।
একটানা ঘুম না হলে—
🔹মেজাজ খারাপ হয়
🔹শক্তি কমে যায়
🔹হার্টের স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে
🔹দিনের কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে
এছাড়াও, নকচুরিয়া অনেক সময় প্রস্টেট বড় হওয়ার পাশাপাশি ইউরিনারি ইনফেকশন বা অন্যান্য সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।

👨⚕️ কোন লক্ষণে ডাক্তার দেখানো জরুরি?
নিচের যেকোনও উপসর্গ থাকলে একজন ইউরোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত—
🔹রাতে বারবার প্রস্রাব করতে যাওয়া
🔹প্রস্রাব থেমে থেমে বের হওয়া
🔹হঠাৎ প্রস্রাবের তাগিদ তৈরি হওয়া
🔹প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা
🔹ব্লাডার পুরো খালি না হওয়ার অনুভূতি
🔹প্রস্রাব শুরু করতে অসুবিধা
সহজ কিছু পরীক্ষা—যেমন ইউরিন টেস্ট, PSA, আলট্রাসাউন্ড বা ইউরোফ্লোমেট্রি—খুব দ্রুত প্রকৃত সমস্যাটি শনাক্ত করতে পারে।
💡 দুপুরে/রাতে বারবার বাথরুমে গেলে কী করবেন?
রাতের সমস্যা জল খাওয়া বা বয়সের দোষ বলে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।
সময়মতো চিকিৎসা পেলে—
🔹ঘুমের মান উন্নত হয়
🔹শক্তি বাড়ে
🔹প্রতিদিনের জীবন স্বাভাবিক হয়
🔬 আধুনিক চিকিৎসায় মিলছে দীর্ঘস্থায়ী আরাম
আজকের দিনে BPH অত্যন্ত সহজে চিকিৎসাযোগ্য।
প্রথম ধাপে সাধারণত ওষুধে প্রস্টেটের পেশি শিথিল করা বা আকার কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির জন্য মিনিমালি ইনভেসিভ চিকিৎসা খুবই কার্যকর।
প্রধান আধুনিক চিকিৎসা—
🔹 ওয়াটার-ভেপার থেরাপি (Water Vapor Therapy)
- নিয়ন্ত্রিত বাষ্পের তাপে প্রস্টেটের অতিরিক্ত টিস্যু নষ্ট করা হয়
- প্রস্টেট ছোট হয়
- আশপাশের অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না
- জটিলতা কম
- এটি একটি ডে-কেয়ার প্রোসিডিউর—বড় অপারেশন লাগে না
- যৌনক্ষমতাও অক্ষুণ্ণ থাকে
🔹 লেজার থেরাপি ও অন্যান্য মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি
এগুলো ইউরেথ্রার উপর চাপ কমিয়ে স্বাভাবিক প্রস্রাব প্রবাহ ফিরিয়ে আনে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
