Bangla Panjika 2026

মিহির সেন: ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাঁতারু

মিহির সেন (১৬ নভেম্বর, ১৯৩০ – ১১ জুন, ১৯৯৭) ছিলেন একজন বাঙালি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাঁতারু, যিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তার অসাধারণ সাঁতার কৌশল এবং দূরগামী ক্ষমতার জন্য তাকে গিনেস বিশ্ব রেকর্ড বইতে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দূরগামী সাঁতারু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

মিহির সেন পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার একটি মধ্যবিত্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তার শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল, যা মূলত তার মাতার উৎসাহ ও তত্ত্বাবধানে বিকশিত হয়। মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কটকে চলে যান লেখাপড়ার জন্য। পরে ভুবনেশ্বরের উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে তৎকালীন ওড়িশা মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়েকের আর্থিক সহায়তায় তিনি বিদেশের পথে রওনা দেন।

লন্ডনে পৌঁছে তিনি প্রথমে রেলওয়ে স্টেশনে নৈশকুলীর কাজ শুরু করেন। ভারতীয় হাই কমিশনের ইন্ডিয়া হাউসে যোগাযোগের পর তিনি লিংকনস ইন-এ ব্যারিস্টারি পড়াশোনা শুরু করেন। সারাদিন কাজ ও রাত্রে পড়াশোনার পাশাপাশি, স্থানীয় পত্রিকায় আমেরিকান সাঁতারু ফ্লোরেন্স চ্যাডউইকের সাক্ষাৎকার পড়ার পর তিনি ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমের চ্যালেঞ্জ নেন। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের পর ফ্রি স্টাইল সাঁতারে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং কয়েকবার চেষ্টার পর প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন। এই সাফল্য ছিল বিশ্বের চতুর্থ দ্রুততম কৃতিত্ব হিসেবে স্বীকৃত।

ভারতে ফিরে তিনি কলকাতা উচ্চ আদালতে ফৌজদারি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল হন। তার প্রতিষ্ঠানের রেশম রপ্তানি কার্যক্রম ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম হয়ে ওঠে। যদিও রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তাকে উচ্চ সরকারি পদে আসার সুযোগ দেয়, মিহির সেন তার ব্যবসা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেন। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কিছু বাধা আসে।

মিহির সেনের অসাধারণ অবদান ও কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু সম্মাননা লাভ করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • পদ্মশ্রী
  • পদ্মভূষণ
  • গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড
  • ব্লিটজ নেহেরু ট্রফি

মিহির সেনের জীবন ও কর্ম আমাদের দেখায় যে, দৃঢ় সংকল্প, সাহস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়।

home3