
কৃষ্ণ চতুর্দশী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:৫৬ থেকে শুক্রবার সকাল ১১:৫৫ পর্যন্ত
অঘোর চতুর্দশী ব্রত = ৪ ভাদ্র – বৃহস্পতিবার – ২১ অগস্ট
একদিন কৈলাস শিখরে মহাদেব দেবী পার্বতীকে বললেন, ‘হে দেবী ! একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত আছে, তুমি আমার অতি প্রিয়তম ! তাই সেই ব্রতের কথা তোমাকে বলছি। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীকে অঘোর চতুর্দশী বলে। ঐ দিন আমার পুজো করলে আর কখনো নরক দর্শন করতে হয় না।
এই ব্রতের বিধান বলছি, শোন। ব্রতের আগের দিন শুদ্ধমনে উপোস করে থাকতে হয়। ব্রতের দিন জলপূর্ণ চারটি কুম্ভ, চারটি অর্ঘ্য সজ্জিত করে, প্রহরে প্রহরে আমাকে স্নান করাতে হয়।
খড়ি দিয়ে আমার মূর্তি তৈরি করে বেলপাতা, সাদাফুল, শ্বেতচন্দন দিয়ে আমাকে পুজো করবে। পুজোর সময় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালাতে হয়। ব্রতের দিন রাত্রি জেগে চার প্রহরে চারটি অর্ঘ্য দেবে। পরের দিন যথাবিধি পারণ করবে। যিনি নিজের মঙ্গল চাইবেন তিনি ‘নম শিবায়’ মন্ত্রে ভক্তিসহকারে অবশ্যই হোম করবেন। পূজান্তে ব্রাহ্মণকে ভোজ্য ও দক্ষিণা দান করবে।’
শ্রীকৃষ্ণ জন্মের পরে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশী তিথিকে ‘অঘোর চতুর্দশী’ বলা হয়। এইদিন উপবাস করে মহানিশায় শিবপুজো করলে মেলে অলৌকিক ফল।
‘শতরুদ্র সংহিতা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে এই দিন মহানিশায় পঞ্চমুখ শিবের পুজো করতে হবে। শিবের এই পাঁচটি মুখের নাম ঈশান, তৎপুরুষ, অঘোর, বামদেব ও সদ্যোজাত। এই পাঁচটি মুখমণ্ডলের সাহায্যে তিনি সৃষ্টি, স্থিতি, সংহার, তিরোভাব ও অনুগ্রহ — এই পাঁচটি কাজ করেন।
ভগবান শিবের এক নাম অঘোর। অঘোর শিব শ্মশানে থাকে। অঘোর শব্দের অর্থ হল — যার ঘোর কেটে গেছে। তন্ত্র মতে “অঘোরান্ন পরো মন্ত্র” অর্থাৎ অঘোর মন্ত্রের পর আর কোন মন্ত্র নাই।
কাশ্মীরী তন্ত্রসাধক আচার্য অভিনব গুপ্ত তাঁর ‘তন্ত্রসংহিতা’ গ্রন্থে এই শিবের পুজোর ক্রম নির্দেশ করেছেন। এই পুজোর দর্শন হল — শাক্ত ভাবে শৈব আরাধনা। একমাত্র উচ্চস্তরের সাধকই এই পুজোর অধিকারী। অর্থাৎ যাদের শুদ্ধি, অশুদ্ধি, পুণ্য, পাপ — এরূপ বিকল্প লোপ পেয়েছে একমাত্র তাঁদের জন্যই এই পুজোর বিধান।
আজকের দিনে শিব পূজা অর্চনায় শিব অত্যন্ত প্রীত হন, ফলে কার্য সিদ্ধ হয়। অঘোর শিবের উপাসকগণ অঘোরী নামে পরিচিত, এরা অঘোর মন্ত্রে দীক্ষিত, তান্ত্রিক। শিব তন্ত্রের জনক। শৈব যোগীদের একটি শাখা হল অঘোরী যোগী, এরা গোরক্ষপূর্ব যুগের যোগী। অঘোর শিবের পূজা হয় শ্মশানে, তান্ত্রিক মতে পঞ্চ “ম কারে”। অঘোর সাধক শ্মশান সাধন দ্বারা তারা মহাশক্তিকে শ্মশানতারা রুপে সাধনা করেন।
অঘোরী সম্প্রদায় ছাড়াও পূর্ণাভিষেক কৌল বীরাচারী সাধকগণ এই দিনে পঞ্চম কারে শিবের ও শক্তি দেবীর পূজা করে। অঘোর চতুর্দশীতে এরা মন্ত্র পুনশ্চারণ করে ও ডাকিনী, যোগিনীর আহ্বান করে এছাড়া বেতাল জাগানো হয়। অঘোর চতুর্দশীতে শিব পূজায় কার্য সিদ্ধ হয়।
.
ॐ নমঃ শিবায়
হর হর মহাদেব
জয় শিব শম্ভু
.
